অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নতুন ফর্মে বিভ্রান্তি কাটাতে আসরে নামলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

রাজ্যের ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের জন্য জুন মাস থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ যোজনা। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে পাবেন আবেদনকারীরা। তবে নতুন আবেদনকারীদের জন্য তৈরি ১২ পাতার ‘ফ্যামিলি লেভেল ডেটা কালেকশন ফর্ম’ নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফর্মে পরিবারের আর্থিক স্থিতি, গাড়ি-বাড়ির বিবরণ ছাড়াও সন্তানদের পড়াশোনা ও ভ্যাকসিনের মতো খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়াকে কেন্দ্র করে অনেকেই এই প্রক্রিয়াকে জটিল বলে মনে করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার এই বিভ্রান্তি দূর করতে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
দুর্নীতি রোধে কঠোর স্ক্রিনিং
বিগত সরকারের আমলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে পুরুষদের টাকা পাওয়ার মতো নানাবিধ বেনিয়মের অভিযোগকে মাথায় রেখে এবার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকার। মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে দুর্নীতি ঠেকাতেই ফর্মপূরণে এই কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। আবেদনকারীর নিজস্ব আয়কর ফাইল (আইটিআর) থাকলে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তবে আপাতত কেবল আয়করের বিষয়টিকেই মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা হবে। ফর্মে চারচাকা গাড়ি বা পাকা বাড়ির তথ্য গোপন করলে পরবর্তী সময়ে তা ধরা পড়ে যাবে এবং সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্ত বা ‘ব্ল্যাক লিস্ট’ করা হবে।
সন্তানদের তথ্যের নেপথ্য কারণ
ফর্মে সন্তানদের স্কুলের নাম, শ্রেণি এবং স্বাস্থ্যগত তথ্য চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী জানান, অভিভাবকরা সরকারি নির্দেশিকা ঠিকমতো মানছেন কি না, তা যাচাই করাই এর মূল উদ্দেশ্য। আবেদনকারীর সন্তান সরকারি নিয়ম মেনে সব ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক নিয়েছে কি না, তা এই তথ্যের মাধ্যমে জানা যাবে। পাশাপাশি, সরকারি অনুমোদনহীন খারিজি মাদ্রাসায় কোনো সন্তান পড়াশোনা করলে সেই পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।
ভবিষ্যৎ যোজনার রোডম্যাপ
ফর্মে সংগৃহীত এই বিপুল তথ্য কেবল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার কেন্দ্রীয় সব যোজনা কার্যকর করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই ডেটাবেজ পরবর্তী সময়ে সেই সব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হবে। আগামী ৩ জুন নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫-৬ জন আবেদনকারীর হাতে এই যোজনার আর্থিক সুবিধা তুলে দিয়ে প্রকল্পের সূচনা করবেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী।