মহিলা সেজে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আত্মসাৎ, মুর্শিদাবাদে গ্রেপ্তার চক্রের মূল পাণ্ডা

পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ ও দুঃস্থ মহিলাদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির পর্দা ফাঁস হয়েছে। পুরুষদের ‘মহিলা’ সাজিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে এবার পুলিশের জালে ধরা পড়েছে এই চক্রের মূল পাণ্ডা মুস্তাফিজুর রহমান। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার অন্তর্গত রাজপুত বাহুরা এলাকা থেকে বহরমপুর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাকিবুল শেখ নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ধৃত মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় আর্থিক তছরুপ, জালিয়াতি, জাল নথিপত্র তৈরি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ধৃতকে বহরমপুর আদালতে পেশ করে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে।
আধার ও ভোটার কার্ডে কারচুপি
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য। ধৃত মুস্তাফিজুর রহমানকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মুর্শিদাবাদ জেলার শতাধিক পুরুষ সদস্যকে সে ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকায় উপভোক্তা হিসেবে নথিভুক্ত করিয়েছিল। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং লিঙ্কড মোবাইল নম্বরে কারচুপি করে পুরুষদের নাম মহিলাদের তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। এই জালিয়াতির মাধ্যমে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা ঢোকার পরই সেই অর্থের ঠিক অর্ধেক অংশ ‘কাটমানি’ হিসেবে চলে যেত মূল পাণ্ডা মুস্তাফিজুরের হাতে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ধৃত হোটেল ব্যবসায়ী রাকিবুল শেখের রঘুনাথগঞ্জের রাজপুত বহুরা এলাকার শ্বশুরবাড়ি সূত্রের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মুস্তাফিজুরের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। এরপর মুস্তাফিজুর ভুয়ো নথি বানিয়ে রাকিবুলের নামে মোট তিনটি আলাদা অ্যাকাউন্টে বেআইনিভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢোকানোর ব্যবস্থা করে দেয়। প্রতি মাসে সেই দুর্নীতির টাকার অর্ধেক ভাগ চলে যেত মুস্তাফিজুরের পকেটে।
প্রশাসনিক নজরদারি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রশাসনিক স্তরে নথিপত্র যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় বড়সড় গলদ ছিল। মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রকল্পে পুরুষদের নাম ঢুকিয়ে টাকা লুটের এই ঘটনা ব্যাপক প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকেই আঙুল তুলছে। জালিয়াতির এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় সরকারি প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল। এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে পুলিশ তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছে।