সোনারপুরে জনরোষের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভিডিও দেখে গ্রেফতার ৫

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল পুলিশ। সোনারপুর থানার পুলিশ ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আঘাত করা, বেআইনি জমায়েত, পথ আটকানো এবং গালিগালাজসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃত আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস দত্ত, তপন মাইতি এবং নির্মাল্য সেনগুপ্ত সকলেই রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
শনিবার সোনারপুরে ভোটপরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই তিনি তীব্র জনরোষের মুখে পড়েন। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো এবং পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয় যে, আত্মরক্ষার্থে অভিষেককে মাথায় হেলমেট পরতে হয় এবং ধস্তাধস্তিতে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায়। বিকেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করার আগে পর্যন্ত তিনি দীর্ঘক্ষণ সেখানেই আটকে ছিলেন।
হামলার কারণ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই হামলার নেপথ্যে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এটি বিজেপির পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং তাঁর সফরের কথা জেনেই হামলাকারীরা আগে থেকে প্রস্তুত ছিল। অন্যদিকে, জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শাসকদলের অভিযোগ, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল।
শারীরিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মারধরের কারণে অভিষেকের বুকে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সাংসদকে ভর্তি করার মতো গুরুতর কিছু ঘটেনি।
এই ঘটনার জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তৃণমূল হামলাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে এবং ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে ধৃতদের কয়েকজনের সঙ্গে বিজেপির যোগসূত্র থাকার দাবি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে আরও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে, ফলে গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে।