নীরব মোদী ও মাল্যদের দুর্নীতির তদন্তকারী ঝানু ইডি অফিসারের ইস্তফা, তুঙ্গে জল্পনা

ভারতীয় রাজস্ব সেবা বা ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিসের (আইআরএস) দক্ষ ও পদস্থ অফিসার সত্যব্রত কুমারের আগাম অবসর গ্রহণ ঘিরে দেশের প্রশাসনিক ও সংশ্লিষ্ট মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ২০০৪ সালের ব্যাচের এই অফিসার বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে কাস্টমসের কমিশনার (অ্যাপিল) পদে কর্মরত ছিলেন। ৪৮ বছর বয়সি এই অফিসারের স্বেচ্ছাবসর বা আগাম অবসরের আর্জি সম্প্রতি মঞ্জুর করেছে ভারত সরকার।
টানা সাফল্যের পর বদলি ও আচমকা অবসর
কাস্টমস ক্যাডারের অফিসার হলেও সত্যব্রত কুমার দীর্ঘ ১২ বছর এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেটে (ইডি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ইডিতে থাকাকালীন তাঁর নেতৃত্বাধীন টিমই নীরব মোদী এবং বিজয় মাল্যদের মতো হাই-প্রোফাইল পলাতক ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত করে তা ফাঁস করেছিল। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর ছত্তিশগড়ের বহুল চর্চিত মহাদেব অনলাইন বেটিং অ্যাপ দুর্নীতির তদন্তের ভারও তাঁর কাঁধে দেওয়া হয়। ইডিতে কাটানো ওই ১২ বছর তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে সফল সময় হিসেবে বিবেচিত হলেও, ডেপুটেশনে থাকা এই ঝানু অফিসারকে পরবর্তীতে আচমকা কাস্টমসে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
কপিল রাজের পর সত্যব্রত, বাড়ছে রহস্য
সত্যব্রত কুমারের এই আগাম অবসর গ্রহণের ঘটনাটি একক কোনো ঘটনা নয়। এর আগে গত বছর ইডির আরও এক প্রভাবশালী অফিসার কপিল রাজ চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। ২০০৯ সালের ব্যাচের অফিসার কপিল রাজ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করে তাঁদের জেলে পাঠানোর ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। দুই মুখ্যমন্ত্রীকে জেলে পাঠানোর পরই তাঁকে দিল্লির জিএসটি ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চে বদলি করা হয় এবং এর কিছুদিন পরেই তিনি ইস্তফা দেন।
তদন্তকারী সংস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রশ্ন
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় রাজস্ব বিভাগে বর্তমানে পর্যাপ্ত সংখ্যায় অফিসার না থাকায় গত কয়েক বছর ধরে ভিআরএস বা আগাম অবসর দেওয়ার প্রক্রিয়া একপ্রকার বন্ধই রাখা হয়েছে। অথচ সত্যব্রত কুমার এবং কপিল রাজের মতো দুই অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ অফিসারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের অবসরের আর্জি মঞ্জুর করতে বিন্দুমাত্র সময় নেয়নি। সত্যব্রত কুমারের আরও ১২ বছর এবং কপিল রাজের আরও ১৫ বছর চাকরি জীবন বাকি ছিল। কর্মজীবনের মাঝপথে এই দুই ঝানু অফিসারের সরে দাঁড়ানো এবং সরকারের দ্রুত সবুজ সংকেত দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অন্দরে কোনো প্রচ্ছন্ন চাপ বা অসন্তোষের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য। একই সাথে, অভিজ্ঞ তদন্তকারীদের এভাবে চলে যাওয়া আগামী দিনে বড় মাপের আর্থিক দুর্নীতির তদন্তের গতি ও গুণগত মানে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।