ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াইতে জিতেও শেষ রক্ষা হলো না, না ফেরার দেশে নন্দলাল বসুর নাতি

ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াইতে জিতেও শেষ রক্ষা হলো না, না ফেরার দেশে নন্দলাল বসুর নাতি

প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন আর নেই। সোমবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শ্বাসকষ্টজনিত গুরুতর সমস্যার কারণে রবিবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সুপ্রবুদ্ধ সেনের এই আকস্মিক প্রয়াণে শান্তিনিকেতন জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আইনি জটিলতা ও ভোটাধিকারের লড়াই

নন্দলাল বসুর ছোট মেয়ে যমুনা সেনের পুত্র সুপ্রবুদ্ধ সেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র এবং ডিভিসির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি শান্তিনিকেতনের পৈতৃক বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। বিগত নির্বাচনগুলোতে নিয়মিত ভোট দিলেও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নজিরবিহীন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হন তিনি। সন্দেহভাজন নাগরিক বা ‘এসআইআর’ তালিকায় নাম থাকার কারণে সুপ্রবুদ্ধ বাবু, তাঁর স্ত্রী দীপা সেন এবং তাঁদের পরিচারকের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন তালিকায় চলে যায়। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যা শান্তিনিকেতনের সুধী সমাজকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছিল।

উদ্বেগ ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

বয়সজনিত অসুস্থতা সত্ত্বেও সুপ্রবুদ্ধ বাবু তাঁর মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট ও পাসপোর্টের মতো অকাট্য নথি দেখিয়ে নিজের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের লড়াই চালিয়ে যান। এমনকি এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। গত ২৩ এপ্রিল বোলপুরের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে গিয়েও প্রথমে ভোট দিতে না পেরে চরম ক্ষোভ ও দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন এই প্রবীণ নাগরিক। যদিও পরবর্তীকালে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ হস্তক্ষেপে তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সমর্থ হন।

এই ঘটনার জেরে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। সুপ্রবুদ্ধ সেনের মতো একজন ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্যকে যেভাবে নিজের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার প্রমাণের জন্য শেষ বয়সে মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হলো, তা ভবিষ্যতে সাধারণ ভোটারদের মনে তীব্র আতঙ্ক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *