তিন মাসে ২০টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের জোরালো আঘাত, মুখ থুবড়ে পড়েছে বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা!

পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এক নজিরবিহীন রূপ ধারণ করেছে। গত তিন মাসে ওয়াশিংটন যতটা স্বীকার করেছে, তার চেয়েও অনেক বেশি জোরালো ও বিধ্বংসী আক্রমণ শানিয়েছে তেহরান। উপগ্রহচিত্র এবং ভিডিও বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার অন্তত আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা কমপক্ষে ২০টি মার্কিন ঘাঁটিতে সফল আঘাত হেনেছে ইরান। কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটির এই সংখ্যা ২৮টি পর্যন্ত হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর জবাবেই তেহরান পশ্চিম এশিয়া জুড়ে মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক প্রত্যাঘাত শুরু করে। ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় কোনো মার্কিন ঘাঁটিই আর নিরাপদ নয়।
বড় অঙ্কের ক্ষয়ক্ষতি ও ভেঙে পড়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ইরানি হামলায় মার্কিন বাহিনীর বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, শক্তিশালী রাডার এবং যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরার পরিকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আল রুওয়াইস ও আল সাদার বিমানঘাঁটি এবং জর্ডনের মুওয়াফ্ফক সলতি বিমানঘাঁটিতে থাকা তিনটি অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (থাড ব্যাটারি সিস্টেম) সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। আমেরিকার কাছে মাত্র আটটি এমন ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ ব্যবস্থা রয়েছে, যার প্রতিটি তৈরিতে খরচ হয় আনুমানিক ১০০ কোটি ডলার। এছাড়া, এই ব্যবস্থা থেকে ছোঁড়া প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৭ লক্ষ ডলার। ফলে এই ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন সামরিক বাজেটে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
উপগ্রহচিত্রে ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ ও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ
বিবিসি ভেরিফাই-এর সংগৃহীত উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী ও নজরদারি বিমানগুলো পুড়ে ধ্বংস হয়েছে। কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং ক্যাম্প আরিফজানে বোমাবর্ষণের ফলে বাঙ্কার, হ্যাঙ্গার এবং সেনা আবাসন গুঁড়িয়ে গেছে। এছাড়া কাতার, ওমান, বাহরাইন ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিও এই তালিকায় রয়েছে। পেন্টাগন দাবি করেছে যে, তাদের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরানের ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং ইরানের সামরিক শক্তি প্রায় নিশ্চিহ্ন। তবে উপগ্রহচিত্রের এই নতুন তথ্য মার্কিন প্রশাসনের সেই দাবিকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের চড়া মূল্য চুকাতে গিয়ে পেন্টাগন অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে বেগ পেতে শুরু করেছে। ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরেই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির কার্যকারিতা এবং এই ব্যয়বহুল যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।