রানি রাসমণিতে মিলল না মমতার ধর্নার অনুমতি, মঙ্গলবার বিকল্প স্থানে দু’ঘণ্টার ছাড়পত্র দিল পুলিশ

রানি রাসমণিতে মিলল না মমতার ধর্নার অনুমতি, মঙ্গলবার বিকল্প স্থানে দু’ঘণ্টার ছাড়পত্র দিল পুলিশ

ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগকে সামনে রেখে মঙ্গলবার কলকাতায় রাজপথে নামার কথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে শেষ মুহূর্তে কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে তৃণমূলের সেই ধর্নামঞ্চ তৈরিতে বাধা দিল পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট ওই জায়গায় কর্মসূচির কোনো অনুমতি না-থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার দুপুরে ধর্মতলা এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।

ধর্নামঞ্চ বাঁধার কাজে পুলিশি বাধার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কুণাল ঘোষ জানান, রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের বিকল্প হিসেবে পুলিশের তরফ থেকে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানেও মাত্র দু’ঘণ্টার জন্য এই কর্মসূচি চালানো যাবে বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। নতুন সিদ্ধান্তের পর তৃণমূল নেতৃত্ব ওয়াই চ্যানেল এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং মঙ্গলবার দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত সেখানে ধর্না কর্মসূচি করার কথা ঘোষণা করেন।

রাজনৈতিক সংঘাত ও পুলিশের ভূমিকা

তৃণমূলের দাবি, কর্মসূচির বিষয়ে আগেই পুলিশকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ডেকরেটরের কর্মীরা মঞ্চ বাঁধতে এলে পুলিশ বাহিনী এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা রয়েছে এবং বিজেপি পুলিশকে ব্যবহার করে তৃণমূলনেত্রীর কর্মসূচি বানচাল করার চেষ্টা করছে। যদিও পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে এবং নির্দিষ্ট অনুমতি না থাকার কারণেই রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে মঞ্চ বাঁধতে দেওয়া হয়নি।

কর্মসূচির ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই প্রশাসনিক বাধার জেরে তৃণমূলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির ধরনে কিছুটা বদল আসছে। কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তারা পুলিশের কথামতো নতুন করে কোনো আবেদনপত্র বা চিঠি দেবেন না, তবে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিলও হচ্ছে না। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের বদলে মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলেই দু’ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত ধর্নায় বসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সংঘাতের জেরে শাসকদলের আগামী আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নিতে পারে এবং এর ফলে কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *