সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে গিয়ে ফের বাঘের থাবায় প্রাণ হারালেন মৌলে

সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে গিয়ে ফের বাঘের থাবায় প্রাণ হারালেন মৌলে

সুন্দরবনে জীবিকার তাগিদে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে ফের বাঘের মুখে প্রাণ হারালেন এক মৌলে। মৃতের নাম গোপাল চক্রবর্তী (৪৫), তাঁর বাড়ি কুলতলী থানার দেউলবাড়ী গ্রামে। বাঘের অতর্কিত হামলায় সঙ্গীর এই মর্মান্তিক পরিণতি দেখে আতঙ্কে দেহ ফেলেই লোকালয়ে ফিরতে বাধ্য হন বাকি দুই সঙ্গী। এই ঘটনায় গোটা দেউলবাড়ী ও কাটামারি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার কুলতলী থানার কাটামারি এলাকা থেকে একটি নৌকা নিয়ে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন গ্রামের তিন জন। রবিবার সকালে মধু নিয়ে ফেরার পথে হলদিবাড়ির জঙ্গলের কাছে তাঁরা নৌকা থামান। সেই সময় গোপাল চক্রবর্তী জঙ্গলের কিছুটা গভীরে প্রাতঃকৃত্য সারতে গেলে আচমকাই একটি বাঘ তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ তাঁর খোঁজ না মেলায় বাকি দুই সঙ্গী বাবলু চক্রবর্তী ও তাপস হালদার জঙ্গলের ভিতরে খুঁজতে যান। সেখানে তাঁরা গোপালবাবুর কোমরের কাটারি, লাঠি এবং চাপ চাপ রক্তের দাগ দেখতে পান। আশেপাশে বাঘের থাবার চিহ্ন দেখে তাঁরা নিশ্চিত হন যে গোপালবাবুকে বাঘে নিয়ে গিয়েছে। প্রাণের ভয়ে আর দেহ খোঁজার সাহস না পেয়ে তাঁরা দ্রুত লোকালয়ে ফিরে এসে খবর দেন।

অসহায় জীবনসংগ্রাম ও বাঘের আতঙ্ক

সুন্দরবনের মৎস্যজীবী, কাঁকড়া শিকারি ও মৌলেদের জীবনে বাঘের আতঙ্ক নতুন কিছু নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের কোর এলাকায় প্রবেশ এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষাকবচ না থাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। জীবিকার বিকল্প সুযোগের অভাব এবং পেটের দায়ে বারবার গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করার ফলেই প্রান্তিক মানুষগুলোকে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।

তদন্ত ও উদ্ধারকাজে দুর্গম জঙ্গল

ঘটনার পর বনদপ্তর ও কুলতলী থানার পুলিশ ইতিমধ্য়েই তদন্ত শুরু করেছে। তবে জঙ্গল অত্যন্ত ঘন এবং দুর্গম হওয়ায় এখনও পর্যন্ত মৃতদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও মৌলে পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বারবার ঘটে চলা এই ধরনের ঘটনা সুন্দরবন উপকূলের প্রান্তিক মানুষগুলোর জীবনসংগ্রামের করুণ ছবিটাই ফের একবার সামনে নিয়ে এল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *