একই পরিবারে তিন দল, মন্ত্রিসভার নতুন চমক বলাগড়ের সুমনা সরকার!

হুগলি জেলার বলাগড়ের সোমরাবাজারের একটি সাধারণ রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে এসে সরাসরি রাজ্য মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন সুমনা সরকার। শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি এবারের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি। প্রথমবার ভোটে লড়েই বড় ব্যবধানে জয় এবং তারপরই সরাসরি মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পাওয়া এই তরুণী নেত্রীকে নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা চলছে।
রাজনৈতিক বৈচিত্র্যে ভরা পরিবার
সুমনা সরকারের পরিবারটি এক অনন্য রাজনৈতিক সহাবস্থানের উদাহরণ। তাঁর বাবা বীরেন সরকার ছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক। বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও সুমনা এবং তাঁর ভাই পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন। তবে সময়ের সাথে সাথে সুমনার রাজনৈতিক গতিপথ বদলে যায়। ২০১৮ সাল নাগাদ মুকুল রায়ের হাত ধরে তিনি বিজেপির দুর্গাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পদ্ম শিবিরের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। অন্যদিকে তাঁর ভাই এখনও তৃণমূল কংগ্রেসেরই সক্রিয় সদস্য। ফলে একই ছাদের নিচে কংগ্রেস, তৃণমূল ও বিজেপি—তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার সহাবস্থান তৈরি হয়েছে।
সফল ছাত্রজীবন থেকে মন্ত্রিত্বের সফর
২০১০ সালে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর (এমএ) পাশ করা সুমনা সরকার পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে বলাগড় এলাকাকে তিনি হাতের তালুর মতো চেনেন। এবারের নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় ৪২ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েই সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন চল্লিশ ছুঁইছুঁই এই নেত্রী, যদিও তাঁর দফতর এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
দলীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তকে সুমনা সরকার তাঁর কাজের প্রতি এক বিরাট সম্মান বলে উল্লেখ করেছেন এবং মানুষের কল্যাণে উৎসর্গীকৃত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। একজন উচ্চশিক্ষিত, তরুণী ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন নেত্রীকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা সুমনার ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।