গল্ফগ্রিন রহস্যমৃত্যুতে গ্রেফতার তিন বন্ধু, ময়নাতদন্তে মিলল মদের উপস্থিতি

গল্ফগ্রিন রহস্যমৃত্যুতে গ্রেফতার তিন বন্ধু, ময়নাতদন্তে মিলল মদের উপস্থিতি

কলকাতার গল্ফগ্রিনের এক ফ্ল্যাট থেকে যুগলের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। মৃত তরুণ-তরুণীর ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে তাঁদের পেটে মদের উপস্থিতি মিলেছে। মৃত্যুর পূর্বে তাঁরা কোনো বিষাক্ত মাদক সেবন করেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সোমবার ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল। মৃত তরুণীর মায়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁদের তিন বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে।

ধৃতদের নাম মুস্তাক আলি মোল্লা ওরফে রোহিত, চন্দন পাসওয়ান এবং অঞ্জলি বঙ্গীরা। সোমবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, গল্ফগ্রিনের ওই ফ্ল্যাটে তাঁরা প্রায়ই হাউসপার্টির আয়োজন করতেন। ঘটনার দিনও সেখানে পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, তরুণের মৃত্যুর প্রায় ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে তরুণীর মৃত্যু হয়েছিল। এই সময়ের ব্যবধান এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে চরম ধন্দে রয়েছেন তদন্তকারীরা।

নেশার আসর ও আয়ের উৎস নিয়ে তদন্ত

পুলিশি তদন্তে প্রকাশ, ২০২৩ সালে রামগড়ের বাসিন্দা ওই তরুণী তাঁর প্রেমিক শাহবাজের সঙ্গে ঘর ছাড়েন। পরবর্তীতে কলকাতার একটি হাউসপার্টিতে চক্রধরপুরের বাসিন্দা অঞ্জলির সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। এরপর সকলে মিলে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকা শুরু করেন এবং নিয়মিত নেশার আসর বসাতেন। শাহবাজ ও রোহিত সমাজমাধ্যমে রিল বানিয়ে উপার্জনের চেষ্টা করতেন।

সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

এই ঘটনার ফলে মহানগরের যুবসমাজের একাংশের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং হাউসপার্টি কালচারের অন্ধকার দিকটি পুনরায় সামনে এসেছে। পুলিশ বর্তমানে ধৃতদের আয়ের উৎস এবং ঘটনার রাতে ব্যবহৃত মাদকের সরবরাহকারী কারা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে। ঘটনার নেপথ্যে কোনো পরিকল্পিত খুন নাকি অতিরিক্ত মাদক সেবনের জেরে দুর্ঘটনা, তা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর স্পষ্ট হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *