জিতেও স্বস্তি নেই লাল-হলুদে, ইমামির পিছুটানে ঘোর অনিশ্চয়তায় ইস্টবেঙ্গল

জিতেও স্বস্তি নেই লাল-হলুদে, ইমামির পিছুটানে ঘোর অনিশ্চয়তায় ইস্টবেঙ্গল

মাঠে সাফল্য এলেও মাঠের বাইরের জটিলতায় ফের আশঙ্কার মেঘ জমছে ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ট্রফি খরা কাটলেও, আগামী মরশুমে লাল-হলুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। ক্লাব ফুটবলে ইনভেস্ট করতে আর চাইছে না ইমামি গোষ্ঠী। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে আসন্ন এএফসি কাপের দল গঠনে।

সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) দূরদর্শিতার অভাব এবং অব্যবস্থাই কর্পোরেট সংস্থাগুলোর এই অনীহার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে এআইএফএফ তীব্র আর্থিক সংকটে জর্জরিত। ফেডারেশনের কোনো সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক অংশীদার নেই, নেই ভারতীয় ফুটবলের অগ্রগতির কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ বা নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার। বছরের পর বছর ধরে ঘরোয়া ফুটবলের সূচি নিয়ে এই টানাপোড়েনের কারণে একের পর এক কর্পোরেট বিনিয়োগকারী ভারতীয় ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সেই একই পথে হেঁটে এবার লোকসান এড়াতে ইস্টবেঙ্গল থেকে বিনিয়োগ গুটিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইমামি গোষ্ঠীও।

এএফসি কাপের আগে বড় ধাক্কা

ইমামি গোষ্ঠীর এই সম্ভাব্য পিছুটান ইস্টবেঙ্গলের জন্য এক চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সামনেই এএফসি কাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট, যেখানে এশিয়ার সেরা ক্লাবগুলোর মুখোমুখি হতে হবে লাল-হলুদকে। আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য যেখানে দল আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন, সেখানে ইনভেস্টরের এই অনীহা ফুটবলার রিক্রুটমেন্ট ও দল গঠনের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিয়েছে।

ঝুঁকিতে লাল-হলুদের ভবিষ্যৎ

বিনিয়োগকারী সংস্থা যদি শেষ পর্যন্ত ক্লাব পরিচালনার আর্থিক দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ হাত ধুয়ে ফেলে, তবে ফুটবলারদের বকেয়া বেতন মেটানো থেকে শুরু করে ক্লাবের দৈনিক খরচ চালানো আসাম্ভব হয়ে পড়বে। ফেডারেশনের অপেশাদারিত্বের মাশুল দিতে গিয়ে ট্রফি জিতেও এক চরম অনিশ্চয়তা ও অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *