পুলিশের তেল ও টায়ার চুরির সিন্ডিকেটে লোপাট কোটি কোটি টাকা!

তৃণমূল জমানার গত ১৫ বছরে পুলিশের অভ্যন্তরে তেল ও টায়ার চুরির এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এসেছে। ডিরেক্টরেট অব সিকিউরিটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানীয় থানা— সর্বত্রই এই চক্র অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। এই চক্রের মূল কৌশল ছিল পুলিশের বিভিন্ন অচল ও ত্রুটিপূর্ণ গাড়িকে নথিপত্রে সম্পূর্ণ সচল বা ‘ফিট’ দেখিয়ে ভুয়ো বিল তৈরি করা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প মালিকদের সাথে সরাসরি যোগসাজশ করে এই ভুয়ো তেলের বিলগুলো তোলা হতো। নথিপত্রে গাড়ি সচল দেখিয়ে যে পরিমাণ জ্বালানি খরচ দেখানো হতো, বাস্তবে সেই তেল পাম্প থেকেই কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হতো। তেল চুরির পাশাপাশি পুলিশের গাড়ির নতুন টায়ার সরিয়ে পুরনো টায়ার লাগিয়ে দেওয়ার মতো চুরির ঘটনাও ঘটেছে নিয়মিত। এভাবে গত দেড় দশকে সরকারি তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছে এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
তদন্তে প্রশাসন ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ক্ষমতা বদলের পর এই বিশাল দুর্নীতি দমনে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বর্তমান প্রশাসনিক মহলের নির্দেশে এই সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে দিতে এবং এর সাথে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পাম্প মালিকদের চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই তদন্তের ফলে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতিবাজ চক্রের মুখোশ উন্মোচিত হবে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করার পাশাপাশি এই তদন্তের প্রভাব পুলিশ বাহিনীর সামগ্রিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।