পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ নয়! রেলমন্ত্রীকে চিঠি লিখে সরব অধীর চৌধুরী

মুর্শিদাবাদসহ পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে রেলের জমি থেকে হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন সাবেক সাংসদ ও কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এই বিষয়ে হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। চিঠিতে জোরপূর্বক উচ্ছেদ অভিযানকে ‘অন্যায্য’ ও ‘অনৈতিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।
রুটি-রুজির সংকট ও অধীরের যুক্তি
রেলমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে অধীর চৌধুরী উল্লেখ করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্য। এখানে কর্মসংস্থানের অভাব মেটাতে রেল-সম্পত্তির মতো জনবহুল স্থানগুলোতে হকারি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পেশা হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। রাজ্যের এক বিশাল সংখ্যক মানুষের পরিবার সম্পূর্ণভাবে এই উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বিকল্প কোনো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে হকারদের উচ্ছেদ করা হলে তা লাখ লাখ মানুষকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।
উচ্ছেদের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাধারণত রেলের উন্নয়নমূলক কাজ, যাত্রী নিরাপত্তা এবং স্টেশন চত্বর যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যেই রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র বিবেচনা না করে আচমকা এই ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা সমাজে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্বাসনহীন উচ্ছেদের ফলে এক ধাক্কায় বেকারত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণের পথ বন্ধ হয়ে যাবে, যা পরোক্ষভাবে সামাজিক অসন্তোষ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। এই মানবিক ও অর্থনৈতিক দিকটি বিবেচনা করেই রেলের জমিতে হকারি করা মানুষদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের নীতি প্রণয়নের দাবি জোরালো হচ্ছে।