দুর্নীতির অভিযোগে টানা বিক্ষোভের জের, ঘর থেকে উদ্ধার তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের ঝুলন্ত দেহ!

বাদুড়িয়া বিধানসভার অন্তর্গত যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্যের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মঙ্গলবার ভোর রাতে নিজ বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে এই তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ। সরকারি স্তরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে গত কয়েকদিন ধরে তাঁর বাড়ির সামনে লাগাতার গণবিক্ষোভ চলছিল বলে জানা গেছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ।
জনক্ষোভ ও আত্মসাতের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর আওতাধীন ব্যাটারিচালিত ময়লা ফেলার সরকারি গাড়ি বিক্রি করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান জাহিদুল হক বৈদ্য। এই দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষ। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর বাড়ির সামনে দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন গ্রামবাসীরা। এছাড়া, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় একাধিক বিজেপি কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর এবং তাঁদের এলাকাছাড়া করার পেছনেও এই প্রধানের সরাসরি হাত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পারিবারিক সূত্র মারফত জানা গেছে, দুর্নীতির অভিযোগে চারিদিকে ক্ষোভ ও কোণঠাসা পরিস্থিতির তৈরি হওয়ায় তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন জাহিদুল।
তদন্ত ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান ও একের পর এক শাসকদলের নেতার গ্রেপ্তানির আবহে এই ঘটনা এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নিজের নাম দুর্নীতিতে জড়ানো এবং গণবিক্ষোভের জেরেই এই পঞ্চায়েত প্রধান আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন কি না, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাদুড়িয়া থানার পুলিশ বাহিনী। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।