কে ‘আসল’ তৃণমূল? বিধানসভায় সই-বিতর্ক আর দল ভাঙার খেলায় চরম নাটকীয়তা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কে ‘আসল’ তৃণমূল? বিধায়কদের ‘সই–বিকৃতি’ এবং দল ভাঙার জল্পনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিধানসভার স্পিকারকে দেওয়া তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর সম্বলিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি ঘিরে ইতিমধ্যেই সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভায় উপস্থিতি এবং রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়ের সামাজিক মাধ্যমের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী ব্লক ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে এবং তারা সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে রাজ্য বিধানসভায় ‘মহারাষ্ট্র মডেল’ দেখতে পাওয়াও আসাম্ভব কিছু নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
চিঠির লড়াই ও সই জালিয়াতির অভিযোগ
সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে স্পিকারের কাছে নতুন একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। দলীয় বিধায়ক অসীমা পাত্র ও কুণাল ঘোষ এই দ্বিতীয় চিঠি বিধানসভায় জমা দিতে গেলে তা অফিশিয়ালি গ্রহণ না করায় ই-মেলে পাঠানো হয়েছে। এই চিঠিতে অতীতে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের উদাহরণ টেনে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ও ফিরহাদ হাকিমকে বিরোধী সচেতক হিসেবে ঘোষণা করার আর্জি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিতে দলীয় বিধায়কদের সই জাল কি না, তা জানতে ফরেন্সিক পরীক্ষার পক্ষে সওয়াল করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে গেরুয়া শিবিরের দাবি, একাধিক তৃণমূল বিধায়ক সিআইডি-র কাছে কবুল করেছেন যে তাঁরা কোনও স্বাক্ষর করেননি। এই সই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তৃণমূলে ভাঙনের ইঙ্গিত ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হাওড়ায় যে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন, সেখানে জেলার সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতে বৈঠক হওয়া নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ গিয়ে বিধায়কদের দল ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সই-বিতর্ক এবং বিধায়কদের দলবদলের জল্পনা যদি সত্যি হয়, তবে বিধানসভায় তৃণমূলের শক্তি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেতে পারে। এর ফলে রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য যেমন বদলে যেতে পারে, তেমনই আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হওয়াও সময়ের অপেক্ষা মাত্র।