রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা স্নেহাশিস চক্রবর্তীর! দলীয় শৃঙ্খলা ও কুৎসা নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী

রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা স্নেহাশিস চক্রবর্তীর! দলীয় শৃঙ্খলা ও কুৎসা নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং তৃণমূলের ভরাডুবির পর এবার জোড়াফুল শিবিরে আরও এক বড়সড় ধাক্কা। এবার সরাসরি সক্রিয় রাজনীতি থেকে চিরতরে অবসর নেওয়ার ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা স্নেহাশিস চক্রবর্তী। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

‘মানুষের প্রত্যাখানের পর রাজনীতিতে থাকা ঠিক নয়’

নিজের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার কারণ খোলসা করে স্নেহাশিস চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় জানান, ছাব্বিশের নির্বাচনে সাধারণ মানুষ তাঁদের দলকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, “মানুষ যখন আমাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন, তখন আমার মনে হয়েছে এই পরিস্থিতিতে রাজনীতি থেকে সসম্মানে অবসর নেওয়াই ভালো।” রাজনীতির বর্তমান রূপ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে প্রাক্তন মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আজকাল অসৎ আচরণ, অসৌজন্যতা, অশালীনতা, কুৎসা এবং যেভাবে অপপ্রচারকে রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার করা হচ্ছে, তা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। এই ধরনের নোংরা রাজনীতির পরিবেশের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলাম না।”

দলের অন্দরে একনায়কতন্ত্র ও ভাঙন নিয়ে তোপ

সরাসরি রাজনীতি ছাড়ার পাশাপাশি তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক বিপর্যয় এবং বিধায়ক-সাংসদদের দলবদল নিয়েও কালীঘাটের নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তৃণমূলের ভেতরে বিধায়ক (MLA) কিংবা সাংসদদের (MP) নিজস্ব ব্যক্তিগত মত পোষণ করার বা স্বাধীনভাবে কথা বলার কোনো জায়গা বা অধিকার থাকা উচিত ছিল, যা বাস্তবে ছিল না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অন্দরে বাক-স্বাধীনতা না থাকা এবং একনায়কতন্ত্রের কারণেই যে আজ তৃণমূলের এই শোচনীয় দশা, তা প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রীর এই বিস্ফোরক বক্তব্যেই স্পষ্ট।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে যে চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব ও হতাশা তৈরি হয়েছিল, স্নেহাশিস চক্রবর্তীর এই পদত্যাগ তারই অন্যতম বড় প্রমাণ। একদিকে, কুণাল ঘোষের মতো নেতারা যখন নবান্নে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে জাভেদ খান বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণরা যখন প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করছেন— সেই সময় স্নেহাশিস চক্রবর্তীর মতো একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতার রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিল। এই ঘটনার প্রভাবে আগামী দিনে দলের অন্যান্য স্তরের নেতা-কর্মীদের মনোবল যে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে এবং জোড়াফুলের ভাঙন আরও ত্বরান্বিত হবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *