অভিষেককে চিনি না, দল ভাঙার পর এবার বিস্ফোরক কসবার বিধায়ক জাভেদ খান

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার প্রকাশ্য বিদ্রোহে রূপ নিয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্তৃত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খান। দলটির ৫৮ জন বিধায়ক মিলে বিধানসভায় পৃথক পরিষদীয় দল গঠনের পর রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে জাভেদ খান প্রশ্ন তুলেছেন, “কে অভিষেক? ওকে চিনি না তো!” একই সুর শোনা গেছে দলের অন্যান্য বিদ্রোহী বিধায়কদের গলাতেও।
একনায়কতন্ত্র বনাম অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের লড়াই
বিদ্রোহী শিবিরের মূল অভিযোগ দলের অভ্যন্তরীণ একনায়কতন্ত্র ও সিনিয়র নেতাদের কোণঠাসা করে রাখার বিরুদ্ধে। জাভেদ খানের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দলে কোনো গণতন্ত্র ছিল না এবং সেখানে থাকা আর না থাকা সমান হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমনকি মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি দলের সর্বোচ্চ নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেতেন না। আইপ্যাকের মতো বহিরাগত সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে প্রবীণ নেতাদের গুরুত্বহীন করে দেওয়া এবং নির্বাচনের পর সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দীর্ঘ অনুপস্থিতি এই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। বিদ্রোহীদের স্পষ্ট বার্তা, তাঁরা দলটিকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চালাবেন এবং কোনো অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বা ব্যক্তির একনায়কতন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে সিনিয়র নেতারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুল সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারকেই দায়ী করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাইপোকে দলের ‘নম্বর টু’ করায় যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছিল, তা-ই এখন তাসের ঘরের মতো দল ভাঙার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন পরিষদীয় দল গঠনের ফলে কার্যত ‘নতুন তৃণমূল কংগ্রেস’ আত্মপ্রকাশ করেছে। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনও পরামর্শদাতা হিসেবে চাইলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্পূর্ণ বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে। ফলে দলটির রাজ্য রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই আগামী দিনে আরও কঠিন হতে চলেছে।