হারানো গৌরব ফেরাতে বাংলার তরুণ প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান রাজ্যপালের

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরলেন আচার্য তথা রাজ্যপাল আর এন রবি। শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি রাজ্যের বিগত দশকগুলোর নীতি ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবকে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, অতীতে অনুসৃত নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক আদর্শের কারণেই একসময়ের অগ্রগামী বাংলা অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছিল।
অধঃপতনের কারণ ও অর্থনৈতিক ধাক্কা
বক্তব্যে রাজ্যপাল উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভারতের মোট জিডিপির প্রায় ১১ শতাংশ আসত বাংলা থেকে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যে রাজ্যটি দেশের চালিকাশক্তি ছিল, ষাটের দশকের পর থেকে সেখানে এক চরম অধঃপতন শুরু হয়। নাম না করে পূর্বতন বামফ্রন্ট ও বর্তমান শাসকদলকে নিশানা করে তিনি জানান, বিকৃত আদর্শ এবং ভ্রান্ত রাজনীতির কারণেই বাংলা একসময় দুর্দশাগ্রস্ত ও পরনির্ভরশীল রাজ্যে পরিণত হয়েছিল। রাজনৈতিক দূরদর্শিতার এই অভাবই রাজ্যের সামগ্রিক প্রগতির পথকে রুদ্ধ করেছিল বলে তিনি মনে করেন।
সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত ও তরুণদের ভূমিকা
অতীতের এই অধঃপতন কাটিয়ে বর্তমানে পরিস্থিতি আবার অনুকূল হচ্ছে বলে দাবি করেন রাজ্যপাল। জাতীয় শিক্ষানীতির ইতিবাচক প্রভাব উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম এখন শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং ‘চাকরিদাতা’ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলছে। গত তিন বছরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি পেটেন্ট বা স্বত্ব অর্জনের সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি মেধা সম্পদকে বৈশ্বিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধা ভেঙে বাংলার তরুণ ও নারী শক্তিকে দেশের চালকের আসনে বসার বার্তা দেন তিনি।
এই সমাবর্তন উৎসবে জাতীয় স্তরে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়। ইসরোর চেয়ারম্যান ড. এস সোমনাথ এবং বিজ্ঞানী ড. দেবীপ্রসাদ দুয়ারীকে সম্মানসূচক ডিএসসি উপাধি প্রদান করা হয়। এছাড়া শিক্ষাবিদ ড. বাসবী ফ্রেজারকে ডিলিট এবং অধ্যাপক ড. রমেশচন্দ্র দাস ও ড. কেশবচন্দ্র মন্ডলকে বিশেষ গবেষণা পদকে ভূষিত করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৩ সাল থেকে উত্তীর্ণ স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও গবেষকদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।