নিরাপত্তা হারালেন হুমায়ুন কবীর, অধীর-নওশাদের উদাহরণ টেনে এবার আদালতের দ্বারস্থ এজেইউপি নেতা

আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র নেতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সোমবার সন্ধ্যায় ইমেলের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পরপরই তাঁর নিরাপত্তায় থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা একে একে চলে যান। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হুমায়ুন কবীর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী বৃহস্পতিবার পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
নতুন দল গঠনের পর হুমায়ুন কবীরের আবেদনের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁকে ওয়াই-প্লাস ক্যাটাগরির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দিয়েছিল। তাঁর সুরক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন একজন ইন্সপেক্টর, একজন সাব ইন্সপেক্টরসহ মোট ১৩ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। এমনকি লোকসভা নির্বাচনের সময় এই নিরাপত্তার বহর আরও বাড়ানো হয়েছিল। হঠাৎ করে অমিত শাহর মন্ত্রক এই সুরক্ষা কবচ তুলে নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বৈষম্যের অভিযোগ ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী কিংবা ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির মতো বিরোধী নেতাদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বহাল থাকলে, কেন শুধুমাত্র তাঁর সুরক্ষাই তুলে নেওয়া হলো। এই বৈষম্যের বিষয়টিকেই মূল অস্ত্র করে তিনি আইনি লড়াইয়ে নামছেন। অবশ্য কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে যাওয়ার পর রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে বিকল্প নিরাপত্তারক্ষী পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাব
একসময় হুমায়ুন কবীরকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁকে বিজেপির ‘দালাল’ বা ‘বি টিম’ বলে তীব্র আক্রমণ করা হয়েছিল। নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন এজেইউপি নেতা। মুর্শিদাবাদের তৃণমূল নেতৃত্বের দলবদল ও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, কারা প্রকৃত অর্থে বিজেপির সহযোগী তা আজ সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের এই নিরাপত্তা প্রত্যাহার মুর্শিদাবাদ জেলার আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা হারিয়ে তিনি যেমন রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হওয়ার কথা অস্বীকার করছেন, অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা গ্রহণ এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে সামনে এনে তিনি নিজের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আদালতের আগামী রায়ের ওপরই এখন নির্ভর করছে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ।