তৃণমূল এখন ঋতব্রতর দখলে! বহিষ্কৃত হয়েও কীভাবে বিরোধী দলনেতা হলেন তিনি?

তৃণমূলের অন্দরে নাটকীয় পটপরিবর্তন! বহিষ্কৃত ঋতব্রতই কি এখন আসল ক্ষমতার মালিক?
১৫ বছরের দীর্ঘ শাসনকাল শেষে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট। প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েই দলের অন্দরে ‘জাল সই’ কাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এই বিদ্রোহের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তড়িঘড়ি তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করলেও, বর্তমান পরিস্থিতি উল্টো চিত্র তুলে ধরছে। কার্যত নিজের দলের ওপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন মমতা, আর ঋতব্রতর নেতৃত্বেই এখন তৃণমূলের মূল পরিষদীয় দল পরিচালিত হচ্ছে।
আইনি জটিলতা ও বাস্তব সমীকরণ
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও কীভাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন, তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর মতে, এই পরিস্থিতির মূলে রয়েছে বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা দলটি এখন আর তাঁর হাতের মুঠোয় নেই। বিধায়কদের বড় একটি অংশ ঋতব্রতর প্রতি সমর্থন জানানোয়, তারাই এখন বিধানসভার অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত পরিচয় বহন করছে।
দলত্যাগ বিরোধী আইনের প্রভাব
সংবিধানের ‘অ্যান্টি ডিফেকশন ল’ বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিল মারপ্যাঁচে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন কোনঠাসা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে চলে যাওয়ায় আইনত তারাই মূল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিদার। অর্থাৎ, সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে ঋতব্রতরাই এখন তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও পরিষদীয় ক্ষমতা—উভয় দিক থেকেই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এখন নির্বাচন কমিশন কীভাবে এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং আইনি স্বীকৃতি কার দিকে ঝুঁকে থাকে, সেটাই দেখার বিষয়।