মেসি কাণ্ডে হাজিরা এড়ালেন অরূপ বিশ্বাস, ক্ষুব্ধ শতদ্রুর হুঁশিয়ারি— ‘বিচার থেকে পালানো যায় না!’

মেসি কাণ্ডে হাজিরা এড়ালেন অরূপ বিশ্বাস, সোশ্যাল মিডিয়ায় চড়ল উত্তাপ
বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা এড়িয়ে গেলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। যুবভারতীতে লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও পরবর্তী আইনি জটিলতার জেরে গত ১৭ মে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। সেই সূত্রেই পুলিশ অরূপ বিশ্বাসকে ৫ জুন হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা দেওয়ার জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
বিচার থেকে পালানো যায় না, অরূপকে তীব্র আক্রমণ শতদ্রুর
প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর হাজিরা এড়ানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ফেসবুকের মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শতদ্রু দত্ত। তাঁর অভিযোগ, আইনি নোটিশ পাওয়ার পরেই আকস্মিকভাবে অরূপ বিশ্বাসের অসুস্থ হয়ে পড়া কেবল কাকতালীয় নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিয়ে হয়তো সময় কেনা সম্ভব, কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া থেকে এভাবে পালানো যায় না। অরূপ বিশ্বাসের এই কৌশলী অবস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শতদ্রু দত্তের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, তাঁর ওপর হওয়া অন্যায় এবং অনুষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য তিনি আইনত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
মেসি ইভেন্ট ও পরবর্তী আইনি লড়াই
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে লিওনেল মেসির সফর ঘিরে ঘটে যাওয়া অরাজকতা ও অনুষ্ঠান বাতিলের ঘটনায় অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। শতদ্রু দত্তের দায়ের করা FIR-এ টিকিটে কালোবাজারি, তোলাবাজি, প্রতারণা এবং ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মেসির সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এই ঘটনার প্রভাবে রাজ্যজুড়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে অরূপ বিশ্বাসকে পদত্যাগ করতে হয়। বর্তমানে আইনগত লড়াই যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক সপ্তাহ রাজ্যের রাজনৈতিক ও ক্রীড়ামহলে এই বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।