তৃণমূলের হাতছাড়া বিধাননগর পুরনিগমও, পদত্যাগ করলেন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী

তৃণমূলের হাতছাড়া বিধাননগর পুরনিগমও, পদত্যাগ করলেন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী

রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন ডামাডোলের আবহে এবার তৃণমূলের হাতছাড়া হতে চলেছে বিধাননগর পুরনিগম। বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবেই পুরনিগমের কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। দলীয় কোন্দল ও প্রশাসনিক সংকটের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের এই বিশ্বস্ত সঙ্গীর পদত্যাগ শাসক শিবিরের জন্য মস্ত বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও কৃষ্ণার এই সিদ্ধান্ত বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মেয়রের ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, পুরোপুরি ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদ ছেড়েছেন এবং নিজের জন্য কিছু সময় দরকার। তবে মেয়র পদ ছাড়লেও কাউন্সিলর হিসেবে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন এবং বিধাননগরের মানুষের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কারও প্রতি কোনো অভিমান নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন বিদায়ী মেয়র।

দলে মহাবিদ্রোহ ও বিধাননগরে ক্ষমতার সংকট

তৃণমূলের প্রশাসনিক ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরে তীব্র মহাবিদ্রোহ শুরু হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন থেকে শুরু করে একাধিক এলাকায় তৃণমূল নেতাদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। এর পাশাপাশি দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে একের পর এক নেতার গ্রেপ্তারিতে কোণঠাসা দল। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ এবং তাতে তৃণমূল নেত্রীর সম্মতির খবরের পর এবার বিধাননগরেও ক্ষমতার এই পালাবদল ঘটল।

১৬ বছর ধরে বিধাননগর পুরনিগমের সঙ্গে যুক্ত কৃষ্ণা চক্রবর্তী দলমত নির্বিশেষে সকলের কথা শোনা এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য পরিচিত ছিলেন। শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হলেও কৃষ্ণার ভাবমূর্তি বরাবরই পরিচ্ছন্ন ছিল। এমন একজন হেভিওয়েট নেত্রীর সরে দাঁড়ানোয় বিধাননগর পুরনিগমের ওপর তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত শেষের মুখে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতা পুরসভার পর বিধাননগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমে এই ভাঙন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও গভীর সংকটকেই প্রকাশ করছে। কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পদত্যাগের ফলে বিধাননগর পুরনিগমে বড় ধরনের প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হবে। একের পর এক পুরসভা ও পুরনিগম হাতছাড়া হতে থাকায় রাজ্যজুড়ে শাসক দলের রাজনৈতিক জমি আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *