ভেঙে যাওয়া দল সামলাতে মহুয়ার কড়া তোপ, বিদ্রোহ রুখে মমতার পাশেই কৃষ্ণনগরের সাংসদ

ভেঙে যাওয়া দল সামলাতে মহুয়ার কড়া তোপ, বিদ্রোহ রুখে মমতার পাশেই কৃষ্ণনগরের সাংসদ

তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন ভাঙন এবং পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ দলবদলু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে চলে যাওয়ার পর এবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ালেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি, অর্থাৎ ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রতরা যখন নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন, তখন মহুয়া একে ‘নতুন তৃণমূল’ নয়, বরং ‘বিজেমূল’ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। এই কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের হাতেগোনা কয়েকজন পুরনো নেতার মতো তিনিও যে স্পষ্টত দলনেত্রীর সঙ্গেই আছেন, তা প্রকাশ্যে এসে বুঝিয়ে দিলেন এই নেত্রী।

মানুষের রায়ের অবমাননা ও ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি

বিদ্রোহী বিধায়কদের তীব্র সমালোচনা করে মহুয়া মৈত্র বলেন, বাংলার নির্বাচনে মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখেই ভোট দিয়েছিলেন, প্রার্থীদের নিজস্ব কোনো ক্যারিশ্মা ছিল না। ভোটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, বিজেপির সাথে তৃণমূলের ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩০ লক্ষ। এই বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পর এভাবে দল ভাঙা মানুষের রায়ের সাথে স্পষ্ট প্রতারণা। তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, ক্ষমতা লোভী নেতারা যদি দলই ছাড়বেন, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার না করে সরাসরি ‘বিজেমূল’ প্রতীকে লড়ে জিতে এলেন না কেন?

ক্ষমতার লোভ ও দল ভাঙার নেপথ্য কারণ

দলের এই সংকটের পেছনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ এবং দীর্ঘদিনের সঙ্গীদের একে একে দলত্যাগের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে মহুয়া মৈত্রের বিশ্লেষণে দল ভাঙার মূল কারণ দীর্ঘদিনের ক্ষমতার লোভ ও ব্যক্তিস্বার্থ। বিদ্রোহী নেতাদের খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে নেতাদের শরীরে চর্বি জমে গিয়েছে। বিরোধী আসনে বসে লড়াই করার মানসিকতা বা সাহস তাঁদের নেই। কারণ বিরোধিতায় থাকলে পুলিশ কিংবা বিডিও কেউ কথা শুনবে না। তাই শাসকের সাথে হাত মিলিয়ে নিজেদের আখের গোছাতেই এই দলবদল করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হতে চলেছে, যার প্রভাব আগামী দিনে কলকাতা পুরসভা সহ সমগ্র রাজ্যের প্রশাসনে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *