অভয়ার ন্যায় চেয়ে মিলেছিল সাসপেনশন, দীর্ঘ দুই বছর পর সেই শুভঙ্করকে কাজে ফেরালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

অভয়ার ন্যায় চেয়ে মিলেছিল সাসপেনশন, দীর্ঘ দুই বছর পর সেই শুভঙ্করকে কাজে ফেরালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

তৃণমূল জমানায় আন্দোলনের শাস্তি হিসেবে জুটেছিল সাসপেনশন। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর অবশেষে সসম্মানে নিজের কর্মক্ষেত্রে পুনর্বহাল হলেন সরকারি কর্মচারী শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের সঙ্গে হওয়া প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছিলেন যে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে সাসপেন্ড হওয়া কর্মীদের দ্রুত কাজে ফেরানো হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেই পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা বিডিও অফিসে শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মনোবল এক ধাক্কায় অনেকটা বৃদ্ধি পেল।

কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতেই শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফুলের মালা পরিয়ে এবং মিষ্টি মুখ করিয়ে স্বাগত জানান তাঁর সহকর্মী ও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। এই দীর্ঘ লড়াইয়ের পর কাজে ফিরে আবেগঘন হয়ে পড়েন তিনি। তিনি স্পষ্ট জানান যে এই লড়াই তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থে ছিল না, বরং রাজ্যের সমস্ত কর্মচারীদের অধিকার এবং আরজি করের অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি পথে নেমেছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারণে তাঁকে চরম অত্যাচার, অপমান এবং প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হলেও তিনি মাথা নত করেননি। এই জয়কে সত্যের জয় হিসেবেই দেখছে তাঁর পরিবার।

প্রতিবাদের মাশুল ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং আরজি কর কাণ্ডের পর অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছিল যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ। সেই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অপরাধে শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার ও পরবর্তীতে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারি কর্মচারীদের এই দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষ এবং আন্দোলনের তীব্রতা পূর্বতন সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম থেকেই কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমন এবং প্রশাসনিক সচ্ছতা আনার ওপর জোর দিচ্ছেন। শুভঙ্করের পুনর্বহাল সেই প্রক্রিয়ারই একটি বড় পদক্ষেপ।

ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ও সম্ভাব্য প্রভাব

চাকরিতে পুনর্বহাল হলেও আন্দোলনের পথ থেকে যে তিনি পিছু হটছেন না, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। কাজে যোগ দিয়েই তিনি আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনের একাংশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর মতে, সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘাত করে কোনো সরকারই টিকতে পারে না এবং বর্তমান পরিস্থিতি তার সবথেকে বড় প্রমাণ।

বিশ্লেষকদের মতে, শুভঙ্করের এই প্রত্যাবর্তন রাজ্যের বাকি আন্দোলনকারী সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে। একদিকে যেমন নতুন সরকারের প্রতি কর্মচারীদের আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে তেমনই প্রশাসনের অন্দরে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আগামী দিনে কর্মচারীদের প্রতিরোধ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো। কোনো রাজনৈতিক রঙ ছাড়াই সরকারি কর্মচারীরা যে নিজেদের অধিকার আদায়ে বদ্ধপরিকর, এই ঘটনা তা আরও একবার প্রমাণ করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *