নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে পালানোর ছক বানচাল, শওকত মোল্লার খোঁজে মাদ্রাসা ঘিরল এনআইএ

প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার সন্ধান ও তাঁকে গ্রেপ্তারে সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা বাসন্তী থানার চুনাখালি এলাকার একটি স্থানীয় মাদ্রাসা ও পুরো গ্রামটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন। এর আগেই শওকত মোল্লার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে এনআইএ, যা এই অভিযানের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিরোধ ও পালানোর ছক
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বৃহস্পতিবার বিকেলে বারুইপুরের একটি আস্তানা থেকে সহযোগীদের নিয়ে বের হন শওকত মোল্লা। পরনে লাল জামা ও মাথায় হেলমেট পরিহিত শওকত দুটি বাইকে চড়ে এবং সঙ্গে দুটি বড় কালো ব্যাগ নিয়ে বাসন্তীর খেয়াঘাটের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসন্তীর এই খেয়াঘাট পার হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার দাদবেড়িয়া হয়ে রাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আত্মগোপন করার চূড়ান্ত ছক ছিল তাঁর। তবে গ্রামবাসীদের তৎপরতায় ও ব্যারিকেডের মুখে পড়ে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং বাইক ঘুরিয়ে তিনি জাকাড়িয়া সুন্দরবন মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই এনআইএ-র বিশাল টিম পুরো গ্রাম ও মাদ্রাসা চত্বর অবরুদ্ধ করে ফেলে। প্রত্যেকটি বাড়িতে তল্লাশির পাশাপাশি যারা এই পলাতক নেতাকে আশ্রয় ও পালাতে সাহায্য করছে, তাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেপ্তারি এড়ানোর চেষ্টা এবং এনআইএ-র এই সাঁড়াশি অভিযান সীমান্ত অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, এর পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত পারাপার চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।