ক্ষমতার এক মাসেই জগদ্দলে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, বিধায়কের ছেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ কর্মীদের

ক্ষমতার এক মাসেই জগদ্দলে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, বিধায়কের ছেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ কর্মীদের

ক্ষমতা দখলের মাত্র এক মাসের মধ্যেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জগদ্দলে প্রকাশ্যে চলে এল বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রাজেশ কুমারের ছেলে ঋত্বিক কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দাদাগিরির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন দলেরই কর্মীদের একাংশ। শুক্রবার পানপুর বিডিও অফিসে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধায়কের ছেলের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের তুমুল তর্কাতর্কি বাধে, যা ঘিরে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির।

বিডিও অফিসে বিধায়ক পুত্রের দাদাগিরি, সরব কর্মীরা

স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, শুক্রবার পানপুর বিডিও অফিসে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা বসেছিলেন। সেই সময় বিধায়কের সরকারি গাড়ি নিয়ে সেখানে হাজির হন তাঁর ছেলে ঋত্বিক কুমার। অভিযোগ, তিনি ঘরে ঢুকেই সেখানে উপস্থিত পুরনো বিজেপি কর্মীদের ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীরা তাঁর সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় বিজেপি কর্মী শুভজিৎ ঘোষ জানান, পরিবেশ দিবসের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল খোদ বিধায়কের। তাঁর জন্যই সেখানে অপেক্ষা করছিলেন কর্মীরা। কিন্তু বিধায়কের বদলে তাঁর ছেলে এসে দলের কর্মীদের সাথে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন, যার প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হন তাঁরা।

দলবদলু তোষণ ও সরকারি গাড়ির অপব্যবহারের অভিযোগ

বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভের কারণ শুধু ঋত্বিকের দুর্ব্যবহার নয়, বরং তাঁর বর্তমান সঙ্গীসাথীরাও। কর্মীদের দাবি, বিধায়কের ছেলে এখন যাঁদের নিয়ে ঘুরছেন, তাঁরা কিছুদিন আগেও তৃণমূল করতেন এবং নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর রাতারাতি শিবির বদলে বিজেপিতে এসেছেন। পুরনো ও ত্যাগী কর্মীদের উপেক্ষা করে এই নব্য বিজেপি নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে, কোনো সরকারি পদে না থেকেও ঋত্বিক কীভাবে নিয়ম ভেঙে ‘বিধায়ক’ লেখা সরকারি গাড়িতে চেপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কোন্দলের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার মূল কারণ হলো ক্ষমতার দ্রুত পালাবদল এবং পুরনো বনাম নব্য বিজেপি কর্মীদের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর অন্য দল থেকে আসা কর্মীদের অতি-সক্রিয়তা এবং তাঁদের বাড়তি গুরুত্ব দেওয়াটাই এই ক্ষোভের আগুন উসকে দিয়েছে। সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মাথায় এমন আদি-নব্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসায় একদিকে যেমন দলের ভাবমূর্তি ধাক্কা খাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও শাসকদলকে নিশানা করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো না গেলে জগদ্দল সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে দলের সাংগঠনিক ভিত দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও এই পুরো বিষয়ে বিধায়ক রাজেশ কুমারের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *