সরকারি প্রকল্পে দ্রুত ছাড়পত্র দিতে এবার দফতরগুলির আর্থিক ক্ষমতা বাড়াল নবান্ন

সরকারি প্রকল্পে দ্রুত ছাড়পত্র দিতে এবার দফতরগুলির আর্থিক ক্ষমতা বাড়াল নবান্ন

রাজ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী সরকারি প্রকল্প রূপায়ণে গতি আনতে বড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন এবং আর্থিক মঞ্জুরি প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে এবার প্রশাসনিক দফতরগুলির নিজস্ব আর্থিক ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন ও সংশোধন করেছে রাজ্য সরকারের অর্থ দফতর। শুক্রবার অর্থ দফতরের অডিট ব্রাঞ্চের (গ্রুপ টি) তরফে এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ইতিপূর্বে গত বছরের জুলাই ও অক্টোবর মাসে এই ক্ষমতা সংশোধন করা হলেও প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও মসৃণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করতেই নবান্নের এই নতুন সিদ্ধান্ত।

ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও নতুন বিন্যাস

নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন দফতরকে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সরাসরি আর্থিক মঞ্জুরির ক্ষেত্রে স্বাধিকার দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে পূর্ত, সেচ ও জলপথ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন, নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত মূল্যের প্রকল্পের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদন সরাসরি নিজেদের স্তরেই দিতে পারবে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিষয়ক এবং सुंदरবন বিষয়ক দফতরকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তালিকায় নির্দিষ্ট করে উল্লেখ থাকা এই দফতরগুলি ছাড়া বাকি সমস্ত সরকারি দফতরের ক্ষেত্রে এই আর্থিক ক্ষমতার ঊর্ধ্বসীমা করা হয়েছে ৭৫ লক্ষ টাকা।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মূলত ফাইল চালাচালির প্রথাগত জটিলতা কমিয়ে মাঠপর্যায়ে উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শুরু করাই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ছোট ও মাঝারি প্রকল্পগুলোর অনুমোদনের জন্য অর্থ দফতরের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় ফাইল আটকে থাকবে না। ফলে গ্রামীণ পরিকাঠামো নির্মাণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্প্রসারণ ও রাস্তাঘাটের সংস্কার কাজ আগের চেয়ে অনেক কম সময়ে সম্পন্ন হবে, যা সামগ্রিক রাজ্য অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে ক্ষমতার এই বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ শর্তও জুড়ে দিয়েছে নবান্ন। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বর্ধিত ক্ষমতার সুবিধা নিয়ে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরের ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং দফতরগুলিকে নিজস্ব বাজেট বরাদ্দের বিষয়টিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *