ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ শেহবাজ, ভারত-পাক যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে

ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ শেহবাজ, ভারত-পাক যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সামরিক সংঘাত এড়ানোর পেছনে আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের সময়োচিত ও সিদ্ধান্তমূলক হস্তক্ষেপের কারণেই গত বছর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছিল এবং এই অবদানের জন্য পাকিস্তান চিরকাল ট্রাম্পের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ককে একটি ‘বিশেষ অংশীদারিত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের দীর্ঘ কূটনৈতিক ইতিহাসের ওপর বিশেষ জোর দেন।

পহেলগাঁও সংঘাত ও ট্রাম্পের ভূমিকা

গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও এলাকায় একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জবাবে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করলে চার দিনব্যাপী এক ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত হয়। শেহবাজ শরিফের দাবি, সেই চরম সংকটের মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতার ফলেই ১০ মে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় রুখে দিয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে বরাবরই এই তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই সমঝোতা সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক স্তরে সম্পন্ন হয়েছিল।

কূটনৈতিক প্রভাব ও আঞ্চলিক রাজনীতি

শেহবাজ শরিফের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াশিংটনের প্রতি ইসলামাবাদের এই অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নীতি মার্কিন প্রশাসনকে খুশি করার একটি কৌশলগত প্রয়াস। একই সাথে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। এই অনুষ্ঠানে মার্কিন চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারও পাকিস্তান ও আমেরিকাকে ‘প্রকৃত কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করে দুই দেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *