সপ্তাহে ৬ দিন শান্তিনিকেতনে হেরিটেজ ওয়াক, বিশ্বভারতীর ইতিহাস ছুঁয়ে দেখার নিয়মে বড় বদল

সপ্তাহে ৬ দিন শান্তিনিকেতনে হেরিটেজ ওয়াক, বিশ্বভারতীর ইতিহাস ছুঁয়ে দেখার নিয়মে বড় বদল

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পর্যটকদের জন্য বিশ্বভারতীর আশ্রম প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখার সুযোগ আরও বিস্তৃত হলো। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব-ঐতিহ্য প্রাঙ্গণে এখন থেকে সপ্তাহে ছয় দিন ‘হেরিটেজ ওয়াক’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কোভিডের সময় থেকে বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এই পরিষেবা সীমিত পরিসরে চালু হলেও, পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার এর পরিধি ও সময়সীমা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হলো।

নতুন সময়সূচী ও টিকিটের নিয়ম

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয় দিনই পর্যটকরা হেরিটেজ ওয়াকে অংশ নিতে পারবেন। সোম, মঙ্গল, শুক্র এবং শনিবার বেলা ৩.৩০ এবং বিকেল ৪.৩০ মিনিটে এই পরিক্রমা হবে। বুধবার সকাল ১১টা ছাড়াও বিকেল ৩.৩০ ও ৪.৩০ মিনিটে এবং পর্যটকদের ভিড় সামলাতে রবিবার সকাল ১০টা, ১১টা, বেলা ৩.৩০, বিকেল ৪টে ও ৪.৩০ মিনিটে হেরিটেজ ওয়াকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

আপাতত অফলাইন মাধ্যমেই পর্যটকদের টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। আশ্রম পরিক্রমার টিকিট পাওয়া যাবে শুধুমাত্র রবীন্দ্রভবন টিকিট কাউন্টার থেকে। সাধারণ পর্যটকদের জন্য মাথাপিছু টিকিটের মূল্য ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে; দলগতভাবে আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মাথাপিছু ৫০ টাকা এবং পরিচয়পত্রধারী পৃথক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ১৫০ টাকা লাগবে। এছাড়া বিদেশী পর্যটকদের জন্য টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ১০০০ টাকা।

গাইড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

পর্যটকদের শান্তিনিকেতনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিখুঁতভাবে বোঝাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হেরিটেজ ওয়াকের জন্য চারজন কর্মীকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যারা গাইড হিসেবে কাজ করবেন। পর্যটকদের সুবিধার্থে এই গাইডেরা বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি—এই তিন ভাষাতেই প্রতিটি স্থানের ইতিহাস ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে সক্ষম।

ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্রীদের হোস্টেল থাকায় এবং পর্যটকদের সার্বিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। হেরিটেজ ওয়াক চলাকালীন পর্যটক দলের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে ২ জন নিরাপত্তা রক্ষী উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি আশ্রমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও পর্যাপ্ত রক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও শারীরিক অসুস্থতা মোকাবিলায় ক্যাম্পাসে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থারও সংস্থান রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলে বিশ্বভারতীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করেই পর্যটকরা শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *