অভিষেকের ক্ষমতা খর্ব, নেপথ্যে কি তবে গ্রেফতারির আশঙ্কা!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বর্তমানে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নেতা-কর্মীদের অবিচল আস্থা থাকলেও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে অসন্তোষ। একাধিক বিধায়ক ও পরাজিত প্রার্থীরা দলের বিপর্যয়ের জন্য অভিষেককে কাঠগড়ায় তুলছেন। এই প্রবল ডামাডোলের মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পদে বহাল রাখলেও তাঁর ক্ষমতা দৃশ্যত খর্ব করেছেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
দলের অন্দরে ক্ষোভ ও সাংগঠনিক রদবদল
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর পদে রেখেও দলের দুই বর্ষীয়ান সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের চরম ভরাডুবির দায়ভার পরোক্ষভাবে অভিষেকের কাঁধেই চাপানো হয়েছে। এই নতুন নিয়োগের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন দলের রাশ নিজের হাতে আরও শক্ত করলেন, তেমনই দলের অন্দরে অভিষেকের একাধিপত্যেও রাশ টানলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাংগঠনিক ব্যর্থতার পাশাপাশি অভিষেকের ক্ষমতা খর্ব হওয়ার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে তাঁর সম্ভাব্য গ্রেফতারির আশঙ্কা। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) নোটিস এবং কয়লা পাচার কাণ্ডে বারবার তলব তাঁর আইনি অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া কলকাতা পুরনিগমের তরফ থেকে বাড়ির নির্মাণের বৈধতা নিয়ে পাঠানো নোটিস পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করেছে। তৃণমূলের অন্দরে জল্পনা চলছে যে, এই ক্রমবর্ধমান আইনি জটিলতায় অভিষেক যদি সত্যিই গ্রেফতার হন, তবে দলের সাংগঠনিক কাজ যাতে কোনোভাবেই থমকে না যায়, সেই সম্ভাব্য প্রভাব সামাল দিতেই আগেভাগে দায়িত্ব বণ্টন করে বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখলেন তৃণমূল নেত্রী।