১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে বাপ্পাদিত্য, গ্রেফতারির পরেই প্রকাশ্যে আসছে ভুরি ভুরি অভিযোগ!

কলকাতার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে গ্রেফতারের পর থেকেই এলাকার রাজনৈতিক আবহে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার বিকেলে পাটুলি এলাকা থেকে তৃণমূল যুব সভাপতি সৌরভ ঘোষকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই সূত্র ধরেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জালে নেওয়া হয় খোদ কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্যকে। রবিবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক আগামী ২১ তারিখ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভয় ভেঙে মুখ খুলছেন সাধারণ মানুষ
গ্রেফতারের পর থানায় নিয়ে আসার সময় স্থানীয়রা তাঁকে দেখে ‘বাপ্পা চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন, যা এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় তোলাবাজি, নির্মাণকাজে কাটমানি আদায় এবং সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করে আসছিলেন এই তৃণমূল নেতা। বিরোধীদের দাবি, তাঁর ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পেতেন না। থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে আর ফেরা যাবে না, এমন আতঙ্কও তৈরি করা হয়েছিল। তবে তিনি পুলিশের জালে পড়তেই সেই ভয়ের প্রাচীর ভেঙেছে। এখন প্রতিদিন নতুন নতুন অভিযোগ জমা পড়ছে পুলিশের কাছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু হয়েছিল বিজেপির হাত ধরে। পরে ২০১০ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। ২০১৫ এবং ২০২১ সালে পরপর দু’বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল কাউন্সিলরদের মুখ্য সচেতকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর ও ভোট পরবর্তী হিংসায় মদত দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে।
এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি স্থানীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসার সুযোগ পেয়েছে, অন্যদিকে শাসকদলের অন্দরেও অস্বস্তি ও ভাবমূর্তি সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগের বিশদ তদন্ত হলে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।