মুম্বইয়ের মিউজিক কনসার্টে ফের ট্র্যাজেডি, ল পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুতে ঘনীভূত ড্রাগস রহস্য!

মুম্বইয়ের গ্ল্যামারাস নাইট লাইফ এবং হাই-প্রোফাইল পার্টি কালচারের অন্ধকার দিকটি আরও একবার প্রকাশ্যে এল। শহরের অন্যতম নামী ইনডোর স্টেডিয়াম এনএসসিআই ডোম (NSCI Dome)-এ আয়োজিত একটি ‘টেকনো মিউজিক কনসার্ট’ চলাকালীন আচমকা এক ২৮ বছর বয়সি আইন ছাত্রের (ল স্টুডেন্ট) মৃত্যু হয়েছে। এই একই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৩১ বছর বয়সি এক তরুণীও। এই জোড়া ঘটনায় বাণিজ্য নগরীর মেগা ইভেন্টগুলির নিরাপত্তা এবং সেখানে মাদকের রমরমা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ছাত্রের নাম বৃষভ গাঙ্গুর্দে। গত শনিবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে ওই মিউজিক কনসার্টের উন্মাদনায় মেতে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীনই আচমকা সংজ্ঞাহীন হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন বৃষভ। বন্ধুরা এবং ইভেন্টের আয়োজকরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তদন্তে পুলিশ ও ড্রাগ ওভারডোজের আশঙ্কা
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, কনসার্টের ভেতরে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে কোনো মারাত্মক শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে মুম্বইয়ের মেগা মিউজিক কনসার্টগুলিতে যেভাবে নিষিদ্ধ মাদকের কারবার চলে, সেই কারণে ড্রাগের ওভারডোজের আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। ঘটনার তদন্তে নেমে মুম্বইয়ের তারদেও থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। কনসার্ট হলের ভেতরের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং ইলেকট্রনিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই একই কনসার্ট থেকে আরও এক তরুণীর অসুস্থতার খবর আসে। ৩১ বছর বয়সি ওই তরুণী কনসার্টে মদ এবং এনার্জি ড্রিংকস একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার পর জ্ঞান হারান। বর্তমানে জেসলক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ওই তরুণী অবশ্য পুলিশকে জানিয়েছেন যে তিনি কোনো নিষিদ্ধ মাদক সেবন করেননি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন
শনিবার রাতের এই মর্মান্তিক ঘটনা মুম্বইবাসীকে মাত্র দুই মাস আগের এক ভয়াবহ স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। গত এপ্রিল মাসে মুম্বইয়ের গোরেগাঁওয়ের একটি টেকনো মিউজিক কনসার্টেও ড্রাগসের ওভারডোজের কারণে দুই ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ তদন্তে নেমে দক্ষিণ মুম্বইয়ের একটি নামী কলেজের বেশ কয়েকজন ছাত্র এবং মাদক সরবরাহকারী পেডলারসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছিল। তখন কনসার্টের ভেতরে ‘এক্সট্যাসি’ নামক মারাত্মক ড্রাগ বিক্রির প্রমাণ মিলেছিল।
পরপর এই ধরনের ঘটনা মুম্বইয়ের মেগা ইভেন্টগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অ্যান্টি-নার্কোটিক্স চেকিংয়ের কার্যকারিতাকে বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কনসার্টের প্রবেশপথে কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে যুবসমাজের হাতে দেদার মাদক বা এই জাতীয় ক্ষতিকর উপাদান পৌঁছে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অনতিবিলম্বে এই ধরনের হাই-প্রোফাইল পার্টিগুলোতে কঠোর আইনি নজরদারি ও ড্রাগ চেকিংয়ের ব্যবস্থা না করা হয়, তবে আগামী দিনে বিনোদনের নামে যুবসমাজের প্রাণহানির এই ধারা আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।