দিল্লির বুকে জোড়া ধাক্কা, লোকসভার পর তৃণমূলের রাজ্যসভাতেও তীব্র ধস, ইস্তফা দিচ্ছেন সুখেন্দু শেখর ও কোয়েল!

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সংকটের অধ্যায় তৈরি হলো। দিল্লির বুকে ঘাসফুল শিবিরে এক বিশাল ধস নেমেছে। একদিকে যখন লোকসভার ১৫ থেকে ১৬ জন দলীয় সাংসদ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দলবদলের চূড়ান্ত আলোচনায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই জানা গেল রাজ্যসভাতেও বড়সড় ফাটল ধরেছে। তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায় এবং টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা সাংসদ কোয়েল মল্লিক সোমবারই রাজ্যসভার সচিবালয়ে গিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো খবর মিলেছে।
নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ ও বিতর্ক থেকে দূরত্ব
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে থেকেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের কর্মপদ্ধতি নিয়ে চরম অসন্তুষ্ট ছিলেন সুখেন্দু শেখর রায়। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন এবং আজই উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। অন্যদিকে, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে রাজনীতিতে এনে বড় চমক দিতে চেয়েছিলেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পুরসভা থেকে শুরু করে দিল্লির সংসদ— চারিদিকে যেভাবে দলের দুর্গ ভেঙে পড়ছে, সেই রাজনৈতিক জটিলতা ও কাদা-ছোড়াছুড়ির মধ্যে আর থাকতে রাজি নন তিনি। কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে স্রেফ সংসদীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রঞ্জিত-কন্যা।
অস্তিত্বের সংকটে ঘাসফুল শিবিরের সংসদীয় দল
একই দিনে সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ— উভয় জায়গাতেই যেভাবে তৃণমূল সাংসদরা একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন, তা রাজনৈতিক মহলে বড়সড় ঝাঁকুনি দিয়েছে। একদিকে কলকাতায় মেয়রের পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা, অন্যদিকে দিল্লির এই জোড়া ধাক্কা— সব মিলিয়ে মমতা-অভিষেকের দলের সংসদীয় অস্তিত্ব এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যাপক ভাঙনের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের শক্তি ও প্রভাব মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দিল্লির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক নাটকীয়তা আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।