মমতাকে পাশে রেখেই বাংলায় তৃণমূলের নীচুতলা ভাঙতে কোমর বাঁধছে কংগ্রেস
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/02/10/rm4rXl4xXYNyINuBFNPJ.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
দিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা বৈঠকের আবহেই জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ এক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছাল। একদিকে যখন কেন্দ্রে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নীচুতলার নেতা-কর্মীদের নিজেদের দিকে টানার এক সূক্ষ্ম অথচ গভীর কৌশল রচনা করছে হাত-শিবির। প্রকাশ্যে তৃণমূলের সঙ্গে সৌহার্দ্য বজায় রাখলেও, দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে কোচবিহারের ‘মেখলিগঞ্জ মডেল’কেই এবার গোটা রাজ্যে হাতিয়ার করতে চাইছে সোনিয়া-রাহুলের দল।
মেখলিগঞ্জ মডেল ও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কৌশল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর থেকেই বাংলায় নিজেদের জমি শক্ত করার সুযোগ দেখছে কংগ্রেস। সম্প্রতি কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের বড় অংশ কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় পুরবোর্ড চলে গিয়েছে হাত-শিবিরের দখলে। এই ঘটনাকেই আদর্শ ধরে এবার রাজ্যজুড়ে ঘাসফুল শিবিরের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের দলে টানতে চায় কংগ্রেস।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, তৃণমূলের কোনো বিধায়ক বা সাংসদের দিকে কংগ্রেস এই মুহূর্তে হাত বাড়াবে না। কারণ, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির মামলা রয়েছে। ফলে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে শীর্ষ নেতাদের এড়িয়ে মূলত পরিচ্ছন্ন ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া নীচুতলার কর্মীদেরই টার্গেট করছে কংগ্রেস। সম্প্রতি রাহুল গান্ধী বাংলার প্রবীণ নেতা অধীর চৌধুরীর সঙ্গেও এই বিষয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন, যেখানে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার সময়ে চলে যাওয়া পুরনো কংগ্রেসী কর্মীদের ঘরে ফেরানো।
ক্ষমতার ভারসাম্য ও দূরগামী রাজনৈতিক প্রভাব
জাতীয় স্তরে সাম্প্রতিক পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের পর আঞ্চলিক দলগুলির তুলনায় কংগ্রেসের অবস্থান অনেকটাই মজবুত হয়েছে। বাংলায় তৃণমূল, কেরলে সিপিএম এবং তামিলনাড়ুর ডিএমকে-র মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলি যখন ব্যাকফুটে, তখন কেরলে জয় এবং বাংলায় তুলনামূলক ভালো ফলের কারণে হাত-শিবির এখন অনেকটাই চাঙ্গা। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্বকে বিন্দুমাত্র খাটো না করেও, রাজ্যে তাঁর দলকে গুছিয়ে ওঠার আগেই বড় ধাক্কা দিতে চাইছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
এই কৌশলের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অত্যন্ত দূরপ্রসারী হতে পারে। তৃণমূলের একাংশ কর্মী যদি কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে লোকাল স্তরে ঘাসফুল শিবিরের ভিত দুর্বল হবে। একইসঙ্গে, বিজেপি যাতে এই অসন্তোষের ফায়দা তুলে দলবদল করাতে না পারে, তার জন্য কংগ্রেস ইতিমধ্যেই নতুন সরকারের জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে রাস্তায় নামার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য নেতৃত্বকে। ফলে, একদিকে জোটে একতা বজায় রাখা এবং অন্যদিকে রাজ্যে গোপনে প্রধান শরিকের ঘর ভাঙার এই দ্বি-পাক্ষিক নীতি বাংলার রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।