দিনেই নামবে রাতের অন্ধকার, আগস্টে বছরের শেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ!

আগামী ১২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে এক বিরল ও দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এটি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় তথা বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে এবং তার ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে, তখনই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে। এই মহাজাগতিক ঘটনার সময় চাঁদ সূর্যের আলোকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেবে, যার ফলে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে দিনের বেলাতেই সাময়িক অন্ধকার নেমে আসবে।
দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণ ও এর বৈজ্ঞানিক প্রভাব
১২ আগস্টের এই সূর্যগ্রহণটি প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা স্থায়ী হবে। ভারতীয় সময় অনুসারে এটি ১২ আগস্ট রাত ৯টা ৪ মিনিটে শুরু হয়ে ১৩ আগস্ট ভোর ৪টে ২৫ মিনিটে শেষ হবে। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া প্রথম সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব ছিল সাড়ে ৪ ঘণ্টা। সেই তুলনায় আগস্টের এই গ্রহণটি অনেক দীর্ঘ হওয়ায় বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দিক থেকে এর প্রভাব ও গুরুত্ব অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আলো আটকে থাকার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বায়ুমণ্ডল ও তাপমাত্রায় সাময়িক পরিবর্তন ঘটতে পারে।
ভারত থেকে দৃশ্যমানতা এবং ধর্মীয় বিশ্বাস
মহাজাগতিক এই বিরল দৃশ্যটি ভারত থেকে দেখা যাবে না। ভারতীয় সময় রাতে এই গ্রহণ সংঘটিত হওয়ার কারণে দেশের আকাশে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। হিন্দু ধর্ম ও জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্যগ্রহণের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এবং সাধারণত গ্রহণের ১২ ঘণ্টা আগে থেকে ‘সূতক কাল’ শুরু হয়, যে সময়ে শুভ বা ধর্মীয় কাজ করা নিষেধ থাকে। তবে এই গ্রহণটি ভারতে দৃশ্যমান না হওয়ায় দেশে কোনো সূতক কাল মান্য হবে না এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে দৈনন্দিন আচার-অনুষ্ঠানে কোনো বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে না।
বিশ্বের যেসব অঞ্চল থেকে দেখা যাবে
১২ আগস্টের এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণটি মূলত গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন এবং উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের কিছু অংশ থেকে সরাসরি দেখা যাবে। এসব অঞ্চলে ‘টোটালিটি’ বা সূর্য সম্পূর্ণ আড়াল হওয়ার মুহূর্তে দিনের আকাশ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যাবে। এছাড়া ইউরোপ, আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার একটি বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ উপভোগ করা যাবে, যেখানে সূর্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়বে।