নির্বাচনী তিক্ততা ভুলে সনিয়াকে জড়ালেন মমতা, দিল্লিতে নয়া সমীকরণের খোঁজে ইন্ডিয়া জোট

জাতীয় রাজনীতিতে যে শেষ কথা বলে কিছু নেই, তা আবারও প্রমাণ হলো দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে যে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোমবার ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে সেই দলেরই সর্বোচ্চ নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁকে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ মেজাজে দেখা গেল। শুধু পাশাপাশি বসাই নয়, সনিয়া গান্ধীকে আলিঙ্গনও করেন মমতা। সাম্প্রতিক নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ এবং তৃণমূলের অন্দরে নিজস্ব বিধায়কদের কাছে মমতার কোণঠাসা হয়ে পড়ার আবহে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কটূক্তি ভুলে জোটের মঞ্চে
মাত্র মাস দুয়েক আগে রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারে মালদা ও মুর্শিদাবাদে গিয়ে কংগ্রেস এবং সিপিএমকে ‘বিজেপির দালাল’ ও ‘শাগরেদ’ বলে তোপ দেগেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট কাটাকাটি না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। পাল্টা রাহুল গান্ধীও বঙ্গে এসে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটার পর রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াইয়ে টিকতে নিজের অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান থেকেই তিনি বিজেপি-বিরোধী সব শক্তিকে এক হওয়ার ডাক দেন, যার চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল সোমবার দিল্লির বৈঠকে।
২৩ দলের মেগা বৈঠক ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণ
দিল্লির এই বৈঠকে তৃণমূলের পক্ষে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও হাজির ছিলেন অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতির মতো বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েট নেতারা। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, বাম দলসহ মোট ২৩টি দলের প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় অংশ নেন। তবে জোটের অন্দরে ফাটলও স্পষ্ট হয়েছে, কারণ তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর কংগ্রেসের হাত ছেড়ে বিজয়ের শিবিরে যোগ দেওয়া ডিএমকে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি বয়কট করেছে।
কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
কংগ্রেসের প্রতি মমতার এই আকস্মিক মনোভাব পরিবর্তনের প্রধান কারণ রাজ্যে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানো এবং দলের ভেতরে তাঁর নেতৃত্বের ওপর তৈরি হওয়া চাপ। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং জাতীয় স্তরে বিজেপিকে ঠেকানোর তাগিদেই এই জোটকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের ঐক্য কিছুটা মজবুত হলেও, ডিএমকে-র মতো গুরুত্বপূর্ণ শরিকের অনুপস্থিতি এবং আঞ্চলিক স্তরের পুরোনো তিক্ততা আগামী দিনে জোটের স্থায়িত্বের ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।