বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে নৈতিক অধঃপতন নেই, চাকরিপ্রার্থীর পক্ষে রায় সুপ্রিম কোর্টের

বিয়ের আগে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের শারীরিক সম্পর্ককে নৈতিক অধঃপতন হিসেবে গণ্য করা যায় না বলে মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র বিয়ের আগে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর কারণে কারও বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বা সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা আইনত বৈধ নয়। বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি মনমোহনের বেঞ্চ তেলঙ্গানা সরকারের এক সিদ্ধান্ত খারিজ করে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।
চাকরি বাতিলের নেপথ্যে ঘটনা
তেলঙ্গানার এক যুবক পুলিশে চাকরির সুযোগ পেলেও তাঁর অতীত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই যুবকের এক প্রাক্তন প্রেমিকা বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন, তবে পরবর্তীকালে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি আপসের মাধ্যমে মিটে যায়। ওই তরুণী আদালতে সাক্ষ্য দিতেও অস্বীকার করেন। তা সত্ত্বেও তেলঙ্গানা সরকার এবং পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিষয়টিকে ‘নৈতিক অধঃপতন’ আখ্যা দিয়ে যুবকের চাকরি বাতিল করে। পুলিশের যুক্তি ছিল, বাহিনীতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি এবং প্রার্থীর অতীতের চারিত্রিক গঠন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তাকে নিয়োগ করা সম্ভব নয়।
আদালতের অবস্থান
সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের এই যুক্তি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণ করেন, আজকের যুগে প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্কে জড়ানো কোনোভাবেই অপরাধ নয় বা তা চরিত্রের খারাপ দিকও নির্দেশ করে না। এছাড়া অভিযুক্ত যুবক চাকরির আবেদনের সময় কোনো তথ্য গোপন করেননি, বরং সততার সঙ্গেই তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও তা মিটে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। যে ঘটনায় অভিযোগ ছিল, সেটিও পারস্পরিক সমঝোতায় শেষ হয়েছে। সব দিক বিবেচনা করে আদালত জানিয়েছে, এমন কোনো আইন থাকা কাম্য নয় যা প্রাপ্তবয়স্কদের পছন্দের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে বাধা দেয়। এই রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে চারিত্রিক মূল্যায়নের বিষয়ে নতুন নজির স্থাপিত হলো।