ইরানের ছোড়া হামলায় মার্কিন অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ধ্বংস! মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন এইএইচ৬৪ অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওমান উপকূলের কাছে ওড়া এই হেলিকপ্টারটি ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয় বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে। যদিও হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে এই ঘটনাকে ‘অযৌক্তিক আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পাল্টা হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানি স্থাপনায় পেন্টাগনের আঘাত
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই হামলার জবাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে ইরানের রাডার ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানা হয়েছে। পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি আত্মরক্ষামূলক সামরিক পদক্ষেপ এবং হেলিকপ্টার ধ্বংসের উপযুক্ত জবাব। বিপরীতে ইরান দাবি করেছে, তারা এই হামলার কঠোর জবাব দেবে এবং দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কয়েক মাস আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরেও দুই দেশের মধ্যে এমন সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও সংকীর্ণ করে তুলেছে।