পিওকে-তে রক্তের হোলি! নিরস্ত্র জনতার ওপর পাক সেনার নির্বিচার গুলি, মৃত অন্তত ৩০

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) ফের মানবিকতার চরম অবমাননা! নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নামা সাধারণ মানুষের ওপর পাক সেনার নির্মম গুলিবর্ষণে রক্তাক্ত পিওকে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ভয়াবহ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন প্রতিবাদী মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি।
কীভাবে ছড়াল অশান্তি?
জন্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-এর ডাকে গত মঙ্গলবার (৯ জুন) পিওকে জুড়ে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এই সংস্থা। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দমাতে পাক সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের বাহিনী সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
প্রতিবাদের নেপথ্যে ক্ষোভের কারণ:
পিওকে-তে দীর্ঘদিন ধরে চলা বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবার বাঁধ ভেঙেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ:
- সম্পদ লুঠ: পাকিস্তান সরকার ও সেনা তাদের অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করছে, অথচ সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে।
- দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক: তাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে এবং উন্নয়নের নামে কেবল অনাচার ও শোষণ চলছে।
- इंटरনেট নিষেধাজ্ঞা: আন্দোলন দমন করতে গত ৫ জুন থেকেই গোটা পিওকে অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাওয়ালকোট এখন এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
কেন ক্ষুব্ধ জনতা?
পিওকে-তে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সরকার কেবলই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ জনতার। এর আগেও বিভিন্ন সময় JAAC-এর নেতৃত্বে আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই সরকার আলোচনার নাম করে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেনি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও இதே ভাবে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পাক সেনার গুলিবর্ষণে বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
বারবার আশ্বাস দিয়েও তা রক্ষা না করায় এবং পরিবর্তে সেনার বন্দুকের নল দিয়ে কন্ঠরোধ করায় পিওকে-র পরিস্থিতি এখন বিস্ফোরক। এই নৃশংস হত্যালীলা কি তবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নতুন কোনো গণ-বিদ্রোহের আগুন জ্বালাবে? এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।