মমতা কংগ্রেসে ফিরলে কি মেনে নেবেন ‘চির-শত্রু’ অধীর? জল্পনা তুঙ্গে, মুখ খুললেন প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি!

মমতা কংগ্রেসে ফিরলে কি মেনে নেবেন ‘চির-শত্রু’ অধীর? জল্পনা তুঙ্গে, মুখ খুললেন প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি!

রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—তৃণমূল কি কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো ঘরে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন সেই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে তীব্র মমতা-বিরোধী হিসেবে পরিচিত অধীর চৌধুরী দিলেন এক বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া।

ব্যক্তিগত নয়, লড়াইটা ছিল রাজনৈতিক:

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধীর চৌধুরী জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কোনো ‘ব্যক্তিগত’ শত্রুতা নেই। অধীরের কথায়, “তৃণমূল কংগ্রেস আমার দল (কংগ্রেস)কে খতম করতে চেয়েছিল, আর আমি আমার দলকে রক্ষা করতে চেয়েছি। এটা আমার রাজনৈতিক ধর্ম ছিল। তৃণমূলের নেতানেত্রীদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধিতা নেই।”

কেন এখন ফিরছেন মমতা?

মমতার দলবদল বা কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্যতার ইস্যুতে অধীর চৌধুরী বেশ খোঁচা দিয়েই বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চয়ই ভোটে হেরেছেন বলেই ফিরতে চাইছেন। এর মধ্যে নতুনত্ব কিছু নেই। আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন দেখেছি তারা কীভাবে কংগ্রেসকে শেষ করার চেষ্টা করেছে। আজ যারা কংগ্রেসে ফিরতে চাইছেন, তাঁরা আগে কই ছিলেন?”

অধীর আরও যোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে যারা মমতা বিরোধিতার রাজনীতি করেছেন, সেই তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীরা এখন চরম বিভ্রান্তিতে। তাদের প্রশ্ন, “এতদিন যাদের সঙ্গে লড়াই করলাম, আজ তাদের সঙ্গেই কি আবার হাত মেলাতে হবে?”

কী বলছে বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব?

অন্যদিকে, এই জল্পনার মধ্যে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন, কংগ্রেসের দরজা সকলের জন্যই খোলা। তাঁর কথায়, “রাহুল গান্ধীর সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে যারা আরএসএস ও বিজেপির স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়তে চান, তাঁদের জন্য কংগ্রেসের দরজা সবসময় খোলা। রাহুল গান্ধীকে যারা প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান, তাঁদের সবাইকে স্বাগত।”

তবে অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য এবং প্রদেশ নেতৃত্বের ‘সবাইকে স্বাগত’ জানানোর বার্তা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *