কর না বাড়িয়েও কীভাবে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব, সেই বিরাট চ্যালেঞ্জ নিয়েই দায়িত্ব নিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত

কর না বাড়িয়েও কীভাবে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব, সেই বিরাট চ্যালেঞ্জ নিয়েই দায়িত্ব নিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত

শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নিজের কাজের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, কর বাড়ালেই যে রাজস্ব বাড়বে এমন কোনো মানে নেই। বরং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে কীভাবে রাজ্যের আয় বাড়ানো যায়, সেটিই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এই নতুন কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন তিনি।

রাজস্ব বৃদ্ধির নতুন কৌশল ও চ্যালেঞ্জ

নতুন অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েই কর কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর মতে, পূর্বতন সরকারের আমলে সব কিছুতেই কর বসিয়ে দেওয়ার একটি প্রবণতা ছিল। কিন্তু অনেক সময় করের হার কমালে করদাতার সংখ্যা বাড়ে, যার ফলে সামগ্রিক রাজস্ব বা রেভিনিউ আরও বেশি আদায় হতে পারে। এই প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে কর না বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি করাকেই নিজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে না নিয়ে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই ধাপে ধাপে এগোতে চান স্বপন দাশগুপ্ত। কর আদায়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কোনো গাফিলতি বা ফাঁকফোকর রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

উত্তরবঙ্গ সফর ও আসন্ন বাজেট

অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন স্বপন দাশগুপ্ত। বৃহস্পতিবারই শিলিগুড়িতে গিয়ে চা শ্রমিকদের মুখোমুখি হবেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনবেন। মূলত তৃণমূল স্তরের মানুষের অভাব-অভিযোগ বুঝে নিয়ে তারপরই সমাধানের পথ খুঁজতে চান তিনি। আগামী ১৮ জুন থেকে রাজ্যে নতুন সরকারের প্রথম বিধানসভা বাজেট অধিবেশন শুরু হতে চলেছে এবং ২২ জুন পেশ হবে পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বাজেট। নতুন অর্থমন্ত্রীর এই কর না বাড়ানোর নীতি আসন্ন বাজেটে কতটা প্রতিফলিত হয় এবং রাজ্যের আর্থিক ঘাটতি মেটাতে এটি কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *