দিল্লির ভারত মণ্ডপমে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর হাতে তৈরি ঝালমুড়িতে রসনাতৃপ্তি প্রধানমন্ত্রী মোদির

দিল্লির ভারত মণ্ডপমে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর হাতে তৈরি ঝালমুড়িতে রসনাতৃপ্তি প্রধানমন্ত্রী মোদির

রাজনীতির রুখাশুখা ময়দানে ফের নতুন করে চর্চায় উঠে এলো বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও মুখরোচক খাবার ঝালমুড়ি। দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিজ হাতে ঝালমুড়ি তৈরি করে খাওয়ালেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর হাতের তৈরি এই ঝালমুড়ি খেয়ে বেশ তৃপ্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং এটি অত্যন্ত সুস্বাদু হয়েছে বলে প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। একটানা দীর্ঘতম সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড গড়ার পর এনডিএ সাংসদদের জন্য আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজের অনুষ্ঠানে এই অভিনব মুহূর্তের সাক্ষী থাকল দিল্লির রাজনৈতিক মহল।

ভোটের প্রচার থেকে দিল্লির দরবারে ঝালমুড়ি

চলতি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রামে এসে প্রথমবার রাস্তার ধারের বিক্রেতার কাছ থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তারপর থেকেই মূলত বাংলার এই সস্তা ও সাধারণ খাবারটি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। নির্বাচনের আগে ও পরে এই ঝালমুড়িকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক জনসংযোগ ও রাজনৈতিক তরজা তৈরি হয়েছিল। এমনকি নেদারল্যান্ডস সফরে গিয়েও প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছিল বাংলার এই খাবারের কথা। এবার ভোট পর্ব মিটে যাওয়ার পর দিল্লির ভারত মণ্ডপমের রাজকীয় আবহ ও এলাহী আয়োজনের মাঝেও শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে আরও একবার সেই পরিচিত স্বাদ চেখে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী।

জনসংযোগে মুখরোচক খাবারের রাজনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের অতি পরিচিত কোনো খাবার বা সংস্কৃতিকে যখন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব আপন করে নেন, তখন তা আমজনতার সাথে সংযোগ স্থাপনে বড় ভূমিকা পালন করে। ছাব্বিশের নির্বাচনের সময় থেকে শুরু হওয়া সেই ‘ঝালমুড়ি কূটনীতি’ এবার দিল্লির দরবারেও স্থান করে নিল। বাংলার মসলাদার খাবারের এই দিল্লিযাত্রা একদিকে যেমন কেন্দ্রের সাথে রাজ্যের নতুন শাসকদলের সুসম্পর্ক ও সহজ রসায়নের ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে তেমনি জাতীয় স্তরে বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতি ও খাদ্যতালিকাকে এক ভিন্ন মাত্রায় লাইমলাইটে নিয়ে আসে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *