রেশন ডিলারের গোডাউনের তালা খুলতেই মিলল বস্তা বস্তা চাল-আটা, কাটোয়ায় ধুন্ধুমার কাণ্ড

রেশনের সরকারি সামগ্রী গ্রাহকদের না দিয়ে ঘুরপথে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া। কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের শ্রী সুরুরা গ্রামে এক রেশন ডিলারের গোডাউনে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী মজুত থাকার হদিস মেলায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ডিলারের কার্যকলাপে সন্দেহ প্রকাশ করার পর, বুধবার গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে ডিলারের গোডাউনটি ঘিরে ফেলেন এবং বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরপর গোডাউনের তালা খুলতেই থরে থরে সাজানো সরকারি রেশনের বস্তা সাধারণ মানুষের চোখের সামনে চলে আসে।
গোডাউন থেকে ঠাকুরঘর, সর্বত্রই রেশনের সামগ্রী
বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা রেশন ডিলার টুলু ঘোষের গোডাউনের তালা ভাঙলে সেখান থেকে ১৫ বস্তারও বেশি ভালো আটা উদ্ধার হয়। এর পাশাপাশি নষ্ট হয়ে যাওয়া আরও বেশ কয়েক বস্তা আটা ও গম উদ্ধার হয়েছে। শুধু গোডাউনই নয়, তল্লাশি চালিয়ে ডিলারের বাড়ি এবং বাড়ির ঠাকুরঘর থেকেও বিপুল পরিমাণ আটা, চিনি ও গম উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের স্পষ্ট অভিযোগ, কার্ড থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে মাসের পর মাস ধরে প্রাপ্য রেশন দেওয়া হতো না। ডিলার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রেশনের সামগ্রী আত্মসাৎ করে তা কালোবাজারির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জায়গায় মজুত করে রাখতেন।
দুর্নীতির অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয় বাসিন্দা শিশির বন্দ্যোপাধ্যায়সহ এলাকার অন্য গ্রাহকরা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিযুক্ত রেশন ডিলারের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেশন ডিলারের স্বামী নীলরতন ঘোষ। তাঁর দাবি, তাঁরা সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করেছেন এবং অনেক গ্রাহক রেশনের জিনিস না তোলায় সেগুলি জমে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ গ্রামবাসীরা। এই ঘটনার জেরে কাটোয়া জুড়ে রেশন বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা এই মজুতদারির তদন্ত শুরু না করলে আগামী দিনে এলাকার খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।