খান স্যারের ‘মেগা’ আইনি লড়াই: পাটনা হাইকোর্টের দ্বারস্থ ইউটিউবার, রাজ্য সরকারকে নোটিস আদালতের

নিজের কোচিং ইনস্টিটিউটের সামনে ঘটা সংঘর্ষ ও হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিল এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলার দাবিতে এবার পাটনা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন জনপ্রিয় শিক্ষক ও ইউটিউবার ফয়সাল খান, যিনি ‘খান স্যার’ নামেই সমধিক পরিচিত।
আইনি লড়াই ও আদালতের অবস্থান আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ৪ জুন দায়ের হওয়া এফআইআরের বিরুদ্ধে ৯ জুন তিনি একটি ফৌজদারি রিট পিটিশন দাখিল করেন। বুধবার বিচারপতি চন্দ্রশেখর ঝার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত বিহার রাজ্য সরকারকে নোটিস পাঠিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করেছে। পাল্টা জবাব জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে আরও এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৩ জুলাই নির্ধারিত হয়েছে। তবে ততদিন পর্যন্ত মামলার স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঘটনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, গত ২ জুন পাটনার ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’-এর সামনে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ১৫-২০ জনের একটি দল কোচিং সেন্টারে ভাঙচুর চালায়, পাথর ছোড়ে এবং এক নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে। ওই ঘটনায় সেন্টারের ম্যানেজারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করে। পুলিশের দাবি, বিহার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার সাফল্য নিয়ে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের মধ্যে বিরোধের জেরেই এই উত্তজনা।
খান স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের মোড় ঘোরে সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরাপত্তারক্ষীদের বয়ানের ওপর ভিত্তি করে। ঘটনাস্থলের বাইরে নিরাপত্তারক্ষীদের অস্ত্র ব্যবহারের ভিডিও সামনে আসে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃত নিরাপত্তারক্ষীরা জানায়, খান স্যার ও তাঁর সহযোগীদের নির্দেশেই তারা গুলি চালিয়েছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে ৪ জুন অস্ত্র আইনসহ একাধিক গুরুতর ধারায় খান স্যারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়।
আইনজীবীদের পাল্টা দাবি অন্যদিকে, খান স্যারের আইনজীবীদের দাবি, এই পুরো বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিশোধমূলক। শুধুমাত্র নিরাপত্তারক্ষীদের বয়ানের ওপর ভিত্তি করেই তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার পাটনা আদালত তাঁকে গ্রেফতারির ওপর অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা প্রদান করেছে এবং এই সংক্রান্ত পৃথক মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ জুন ধার্য করা হয়েছে।