উত্তরে প্রবল বর্ষণ আর দক্ষিণে আছড়ে পড়বে কালবৈশাখী! স্বস্তির বর্ষা কবে?

উত্তরবঙ্গে আগেই প্রবেশ করেছে বর্ষা, আর দক্ষিণবঙ্গে তা এখন কেবলই সময়ের অপেক্ষা। তবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু পুরোপুরি প্রবেশের ঠিক আগে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়েছে কালবৈশাখীর অনুকূল পরিস্থিতি। আজ বৃহস্পতিবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কালবৈশাখীর পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
উত্তরে ভারী বৃষ্টি ও দক্ষিণে কালবৈশাখীর দাপট
গত ৯ জুন উত্তরবঙ্গে বর্ষা ঢোকার পর থেকেই উত্তরের জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ চলছে। বিশেষত জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে এখনই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি, ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর এবং দুই বর্ধমানে ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী আছড়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। খাস কলকাতাতেও দুপুরের পর ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্ষার আগমন ও আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব
মৌসুমী বায়ুর এই আগমনী পর্বে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় দক্ষিণবঙ্গে তীব্র আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এই ভ্যাপসা গরম এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যই মূলত কালবৈশাখী ও সাময়িক ঝড়বৃষ্টির প্রধান কারণ। সাময়িক বৃষ্টিতে গরমের দাপট থেকে ক্ষণিকের স্বস্তি মিললেও, তা থামলেই অস্বস্তি ফের বাড়বে। তবে পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় পাকাপাকিভাবে বর্ষা প্রবেশ করবে। এর প্রভাবে আগামী দু’দিন পর থেকে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পাবে। ফলে দীর্ঘদিনের হাঁসফাঁস গরম থেকে রাজ্যবাসী অবশেষে একটি স্থায়ী স্বস্তি পেতে চলেছেন।