মমতার পায়ের তলা থেকে সরছে মাটি! বিদ্রোহী ২০ সাংসদের তালিকায় সায়নী ঘোষও? তোলপাড় রাজনীতি

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর কি এবার আক্ষরিক অর্থেই আড়াআড়ি ভাঙতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস? ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে বিদ্রোহ এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আর এরই মাঝে সামনে এলো এক বিস্ফোরক তথ্য, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক বিরাট ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রের খবর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে তাঁরা এনডিএ (NDA)-কে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সংসদে তাঁদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই চিঠিতে নাকি সই রয়েছে যাদবপুরের তারকা সাংসদ তথা একদা মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সায়নী ঘোষের! তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি ঘিরে এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই যদি দল ছাড়ে, তবে তা মমতার জন্য হবে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
‘কালা-মদিনা’ গান ও বিজেপির চোখ রাঙানি
রাজনীতিতে ‘জুনিয়র মমতা’ নামে পরিচিত সায়নী ঘোষ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় ‘হৃদয় মে হ্যায় কাবা অউর নয়ন মে মদিনা’ গানটি গেয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পান। ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা দিতে গিয়ে সেই সময় বিজেপির তীব্র রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল এই তারকা নেত্রীকে।
রাঘব চাড্ডাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য
আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাঘব চাড্ডাকে নিয়ে সায়নীর একটি মন্তব্য একদা চরম শোরগোল ফেলেছিল। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে সায়নী বলেছিলেন, “আমার নামের শেষে চাড্ডা নেই। চাড্ডা ‘চড্ডি’ হতে পারে, কিন্তু ঘোষ সব সময় ঘোষ-ই থাকবে।” তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে গেরুয়া শিবির তীব্র আপত্তি তুলেছিল।
সায়নীর রাজনৈতিক উত্থান ও বিতর্ক
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে টলিউড থেকে তৃণমূলে যোগ দেন সায়নী। আসানসোল থেকে প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়ে হারলেও মমতাদির গুডবুকে ছিলেন তিনি। এরপর ত্রিপুরার পুরভোটের সময় বিজেপির সভার সামনে ‘খেলা হবে’ স্লোগান দেওয়ায় আগরতলা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারও করে। ২০২৩ সালে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী হওয়ার পর শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি তাঁকে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। সমস্ত বিতর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ২০২৪ সালে যাদবপুর থেকে সাংসদ হন তিনি এবং ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দলের অন্যতম মূল ‘স্টার ক্যাম্পেইনার’ ছিলেন।
সেই সায়নী ঘোষই এবার দল ছাড়ার লাইনে! ২০ জন সাংসদের এই বিদ্রোহের পর বাংলার শাসক দলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।