তৃণমূলে রোজই পড়ছে উইকেট! দিদির দল ভাঙার আসল মাস্টারমাইন্ড কে?

কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই যেন তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অনেকেই এখন তুলনা করছেন ক্রিকেট ম্যাচের সঙ্গে, যেখানে প্রতিদিন নিয়ম করে ঘাসফুল শিবিরের এক-একটি উইকেটের পতন ঘটছে। একের পর এক নেতার দলত্যাগ ও বিদ্রোহে জেরবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তৃণমূলের এই ঐতিহাসিক ভাঙনের নেপথ্যে আসল কৌশলী বা মাস্টারমাইন্ড কে?
ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরের অসন্তোষের আগুন এখন দাউদাউ করে জ্বলছে। গত কয়েক দিনে একাধিক রাজ্যসভা সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। লোকসভা থেকে শুরু করে বিধানসভা—সব জায়গাতেই দলের একাংশের মধ্যে বিদ্রোহের সুর স্পষ্ট। এমনকি প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে হাতছাড়া হওয়া শাসকদল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, দলের এই ভাঙনের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে কয়েকজন চেনা মুখের। অসন্তুষ্ট সাংসদদের এককাট্টা করার ক্ষেত্রে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম জড়িয়ে যেমন অভিযোগ উঠছে, তেমনই বিধানসভার বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ হিসেবে সামনে আসছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও। যদিও সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলের মতো কেউ কেউ “দিদির সঙ্গেই আছি” বলে জল্পনা ওড়ানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু ভাঙন আটকানো যাচ্ছে না। এদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সূত্রে রাজ্যসভা সাংসদ সুস্মিতা দেবের পদত্যাগও দলের ক্ষতে নুন ছিটিয়ে দিয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলের সিংহভাগের নজর কিন্তু এখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিকে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভকে সুনিপুণ রাজনৈতিক চালে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি। শুভেন্দু নিজে দীর্ঘদিন তৃণমূলে থাকার কারণে দলের সমস্ত নাড়িনক্ষত্র এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা খুব ভালো করেই জানেন। আর সেই অভিজ্ঞতাকেই অস্ত্র করে তিনি তৃণমূলের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের এই ধারাবাহিক বিপর্যয় কি শুধুই ক্ষমতা হারানোর স্বাভাবিক পরিণতি, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো সুপরিকল্পিত মেগা প্ল্যান? বাংলার দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক সমীকরণে এই উত্তর খোঁজার চেষ্টাই এখন চলছে সর্বত্র।