তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইকের ইস্তফা, দলবদলের জল্পনা তুঙ্গে!

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় রাজনীতিতে একের পর এক ধাক্কা অব্যাহত রয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দলের অন্দরে আরও বড়সড়ো ভাঙনের ইঙ্গিত দিয়ে রাজ্যসভা সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তরবঙ্গের পরিচিত নেতা প্রকাশ চিক বরাইক। বৃহস্পতিবার তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই তরুণ নেতার হঠাৎ এমন পদক্ষেপে শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পেল।
ইস্তফার নেপথ্যে বিধানসভা ভোটের ফল ও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা
পদত্যাগের কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকেই প্রধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রকাশ। সংবাদমাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনতার রায়ই শেষ কথা এবং ভোটের ফল দেখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক গন্তব্য বিজেপি হতে চলেছে কিনা, তা নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি। তিনি বয়স কম থাকার কথা বলে বিষয়টি ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দিলেও, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করা এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে না জানিয়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া জল্পনাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। পাশাপাশি, ”মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করব!”— তাঁর এই মন্তব্য দলবদলের সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
উত্তরবঙ্গে শাসক দলের সংগঠন ও রাজ্যসভায় জোড়া সংকট
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রকাশ চিক বরাইককে অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিল দল। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। পরপর তিন সাংসদের পদত্যাগের ফলে একদিকে যেমন রাজ্যসভায় তৃণমূলের শক্তি হ্রাস পাচ্ছে, তেমনই উত্তরবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঞ্চলে দলের সাংগঠনিক ভীতও বড়সড় ঝাঁকুনি খেল। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ স্পষ্ট হলেই বোঝা যাবে এই ইস্তফার নেপথ্যে নিছক ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে, নাকি গভীর কোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্য কাজ করেছে।