ঋতব্রতই কি বিরোধী দলনেতা? হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে বিধানসভা, তলব হলফনামা

কলকাতা: বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে শাসক দলের অন্দরের কোন্দল এবার গড়াল আদালত পর্যন্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্পিকার স্বীকৃতি দিলেও, তা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। এই সিদ্ধান্তের সত্যতা জানতে চেয়ে বৃহস্পতিবার সরাসরি বিধানসভার কাছে হলফনামা তলব করেছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
এ দিন মামলার শুনানিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “স্পিকার যদি কাউকে এই পদের দায়িত্ব দিয়েও থাকেন, তবে সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি কেন এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি? এটা কি সাধারণ মানুষের জানার অধিকারের মধ্যে পড়ে না?”
আদালত সূত্রে খবর, আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে বিধানসভার অধিবেশন। তার আগে নতুন করে যাতে কোনো আসন সংরক্ষণ না করা হয়, সেই বিষয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশের আবেদন জানিয়েছিলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আদালত এখনই কোনো স্থগিতাদেশ না দিয়ে জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (১৬ জুন) হলফনামা জমা পড়ার পর সব পক্ষের বক্তব্য শুনেই পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
গত ৮ জুন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আসলে, দলগতভাবে শোভনদেববাবুকেই এই পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। কিন্তু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার অভিযোগ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নামের সমর্থনে যে চিঠি স্পিকারকে পাঠানো হয়েছিল, তাতে দলের বহু বিধায়কের সই জাল করা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন, যা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।