আজ দিনভর তুমুল দুর্যোগের আশঙ্কা, একাধিক জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস!

রাজ্যে অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে, কেটেছে তীব্র ভ্যাপসা গরমের দাপট। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ শুক্রবারও উত্তর থেকে দক্ষিণ— গোটা রাজ্যেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে। প্রাক-বর্ষার এই ভারী বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই কমেছে, যা সাধারণ মানুষকে চরম অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিয়েছে। তবে বৃষ্টির পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি ও কমলা সতর্কতা
আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় আজ কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে আজ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এছাড়া কলকাতা, হুগলি, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদেও বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে আগামীকাল শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে এবং ঝড়ের গতিবেগ কমে আসতে পারে।
উত্তরবঙ্গে বর্ষার আগমন ও হলুদ সতর্কতা
ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করেছে, যার ফলে সেখানে নিয়মিত বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে গেছে। ডুয়ার্স ও পার্বত্য এলাকায় আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদাতেও একই গতিবেগে হাওয়া বওয়ার সম্ভাবনা থাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দুর্যোগের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত উত্তরবঙ্গে বর্ষার সক্রিয়তা এবং দক্ষিণবঙ্গের দিকে মৌসুমী বায়ুর ক্রমশ অগ্রসর হওয়ার কারণেই এই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটেছে। এই দুর্যোগের জেরে একদিকে যেমন ভ্যাপসা গরম থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলেছে, অন্যদিকে তীব্র বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে জনজীবন ও যাতায়াত ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। বিশেষ করে ঝড়ের দাপটে গাছ বা ডালপালা ভেঙে পড়তে পারে। এই কারণে আজ সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং রাস্তায় চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।